নিউ টাউনের হোটেলে সেলিম- হুমায়ুন বৈঠক! জোট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা, বেরিয়ে কী বললেন কবীর, কী করবে সিপিএম
আনন্দবাজার | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
কলকাতায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। বুধবার রাতে নিউ টাউনের একটি হোটেলে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। হুমায়ুন বেরিয়ে জানিয়েছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম, আইএসএফ-এর সঙ্গে তিনি জোট করে লড়়তে চান। তা নিয়েই সেলিমের সঙ্গে কথা হয়েছে। জোটের বিষয়ে নওশাদ সিদ্দিকির দলের সঙ্গে আলোচনার ভার সিপিএমের উপরেই ছেড়েছেন হুমায়ুন। তবে এই আলোচনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলে দিতে নারাজ সিপিএম। সেলিম জোটের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
হুমায়ুন নিউ টাউন থেকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমরা জোট করে লড়ব কি না, সে বিষয়ে কথা বলেছি। আইএসএফ-এর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি ওঁদের উপরেই ছাড়তে চাই। কংগ্রেস নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আছে বলে আমার মনে হয় না।’’ সূত্রের খবর, সিপিএমের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে কথা বলেছেন হুমায়ুন। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না-দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।
বৈঠকের পর সেলিম আনন্দবাজার ডট কমকে বলেন, ‘‘হুমায়ুন বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে বার্তা পাঠাচ্ছিল। ওর সঙ্গে আজ (বুধবার) সাক্ষাৎ হয়েছে। আমি তো বলেইছিলাম, নতুন দল করলে আমি কথা বলব। ওর ভাবনা জানলাম। এ বার আমি দলকে তা জানাব।’’ হুমায়ুনের দল কি ধর্মনিরপেক্ষ? সেলিম বলেন, ‘‘মুখে তো তা-ই বলছে। তবে আমি বলেছি, ও আগে যে সমস্ত কথাবার্তা বলেছে, তা বলা যায় না। এ নিয়ে আলোচনা হবে।’’
সেলিম-হুমায়ুন বৈঠক নিয়ে অনেকে আশাবাদী। তবে সিপিএমের একটা বড় অংশের বক্তব্য, যে নেতা বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন, তাঁর সঙ্গে বামেদের জোট জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গত বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের মতো পরিণতি হতে পারে সিপিএমের। তাই সাবধানে পা ফেলা দরকার।
সেলিমের সঙ্গে হুমায়ুনের বৈঠকের খবর বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে সিপিএমের অন্দরে। তার পরেই দলের অভ্যন্তরে প্রতিরোধের আবহ তৈরি হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির উদ্বাস্তু অধ্যুষিত অঞ্চলের সিপিএম নেতারা বলতে শুরু করেছেন, এই এলাকায় পার্টিটার নামনিশানা আর থাকবে কি না, সন্দেহ আছে। দক্ষিণবঙ্গের সিপিএমের এক রাজ্য কমিটির সদস্য বলেন, ‘‘ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে বিকাশদা (আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য) গোমাংস ভক্ষণ করার পর ভোটে তার কী প্রভাব পড়তে পারে, তা আমাদের পার্টি হাড়ে হাড়ে জানে। তার পর আইএসএফের সঙ্গে জোটের ফলাফলও জানা। এ বার হুমায়ুন। কফিনে শেষ পেরেকটাও পোঁতা হয়ে গেল না তো?’’