• 'হাড়গোড়ও মিলবে কি?' আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের পরে চিন্তায় স্বজনরা
    এই সময় | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, তমলুক ও খড়্গপুর: কলকাতার আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আহত পাঁচ জন। জেলা প্রশাসন নিখোঁজদের খোঁজে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার সকালে নিখোঁজ ২১ জনের পরিবারের প্রায় ৫০ জনকে নিয়ে নরেন্দ্রপুরে রওনা দেয় প্রশাসন। দু'টি মিনিবাস ও চারটি গাড়ি করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। নরেন্দ্রপুর থানায় মিসিং ডায়েরি করা হয়েছে বলে খবর। দফায় দফায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দিতে দেখা যায় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের।

    জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তত্ত্বাবধানে তাঁদের কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সারাদিন ধরে চলে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন, তমলুক ব্লকের দেবাদিত্য দিন্দা, গোবিন্দ মণ্ডল, রামকৃষ্ণ মণ্ডল, ক্ষুদিরাম দিন্দা, শশান্ত জানা, বিমল মাইতি ও গুরুপদ সাউ, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের রাজু মান্না, নন্দকুমার ব্লকের সন্দীপ মাইতি, সুজিত সিং ও কার্তিক জানা, সুতাহাটা ব্লকের নান্টু খাড়া ও সুব্রত খাড়া, পাঁশকুড়া ব্লকের শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, বাপন মাঝি, সমরেশ ফাদিকার, তপন দোলুই ও বাসুদেব বেরা, ময়না ব্লকের বুদ্ধদেব জানা ও সৌমিত্র মণ্ডল। আরও এক জনের নাম এখনও জানা যায়নি।

    এ ছাড়াও আহত অবস্থায় ফিরেছেন তমলুক ব্লকের সুশান্ত জানা, সুতাহাটা ব্লকের - মানবেন্দ্র খাঁড়া, সুজিত গাউনিয়া-সহ পাঁচ জন। এ দিন বারুইপুর হাসপাতালের সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নিখোঁজ শশাঙ্ক জানার ভাই শ্যামল জানাকে। তিনি বলেন, 'প্রতিবেশী সুশান্ত জানা বেঁচে ফিরলেও দাদার এখনও কোনও খোঁজ নেই। শেষ আশাটুকু নিয়েই ডিএনএ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি।' একাদশ শ্রেণির ছাত্র দেবাদিত্য দিন্দার কাকা বাপি দিন্দা বলেন, 'সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে একাধিক হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে খোঁজ করেছি। কিন্তু কোথাও ভাইপোর সন্ধান পাইনি।'

    বুধবার প্রশাসনের সহযোগিতায় দেবাদিত্যর মা ডিএনএ টেস্টের জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। নিখোঁজ বিমল মাইতির কাকা গণেশ মাইতি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মতো আর্থিক অনুদান ও চাকরি পেলে পরিবারটা বাঁচবে।' পাঁশকুড়ার শ্রীকৃষ্ণের জামাই লক্ষ্মীকান্ত পড়িয়া বলেন, 'আমার শ্বশুরমশাইয়ের দাদা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কলকাতা রওনা দিয়েছেন।' পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইল বলেন, 'বর্তমানে আমাদের জেলায় ২১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নরেন্দ্রপুরে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে আহত পাঁচ জনের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাও প্রশাসন ব্যবস্থা করবে।'

    অন্য দিকে, এখনও নিখোঁজ পিংলা থানা এলাকার মালিগেড়িয়া গ্রামের অনুপ প্রধান, বিশ্বজিৎ সাউ এবং কৃষ্ণেন্দু ধাড়া। ডিএনএ পরীক্ষায় জোর দিচ্ছে পরিবার। তিন যুবকের বাবাই এ দিন ফের নরেন্দ্রপুর থানায় যান। ফুলের কাজ করার জন্য কয়েক দিন আগেই আনন্দপুরে গিয়েছিলেন তিন যুবক। থাকতেন সেখানকারই একটি গুদাম ঘরে। আগুনের খবর পাওয়ার পর থেকেই মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পরিবার। আনন্দপুর রওনা দেন পরিবারের লোকেরা। মঙ্গলবার রাতে বিশ্বজিতের বাবা স্বপন সাউ, অনুপের বাবা নিমাই প্রধান এবং কৃষ্ণেন্দুর বাবা সুজিত ধাড়া একরাশ হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শেষে বুধবার ভোরে নরেন্দ্রপুর থানা থেকে ফোন আসে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। নিখোঁজ যুবকদের প্রতিবেশী সূর্যকান্ত সাউ বলেন, 'নরেন্দ্রপুর থানা থেকে ফোন আসার পরে তিন যুবকের বাবাকেই আবার পাঠানো হয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য। এখন দেখা যাক, কোনও সন্ধান মেলে কি না।' বাড়িতে বাবা, মা, স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তান রয়েছে অনুপের। কৃষ্ণেন্দুরও বাবা-মা, স্ত্রী ও ৯ বছরের সন্তান রয়েছে। বিশ্বজিৎ অবিবাহিত। অনুপের দিদি প্রিয়াঙ্কা সাঁতরা, বিশ্বজিতের দিদি তাপসী হাজরা বলেন, 'খবরে যা শুনছি, তাতে তো ভাইদের হাড়গোড়ও মিলবে কি না সন্দেহ।'

  • Link to this news (এই সময়)