মুম্বই: বারামতীতে আছড়ে পড়া ‘বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫’ বিমানের ককপিটে ছিলেন দু’জন। ক্যাপ্টেন (পাইলট-ইন-কমান্ড) সুমিত কাপুর এবং ফার্স্ট অফিসার (সহকারী পাইলট) শম্ভবী পাঠক। এবার এই ক্যাপ্টেন সুমিতকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো। জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে মদ্যপ অবস্থায় ‘ডিউটি’ করার অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়েছিলেন ১৬ হাজার ৫০০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা থাকা সুমিত। তিন মাস বেতন ছাড়াই কাজ করতে হয়েছিল তাঁকে। দু’বছরের জন্য কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁর ‘ইনস্ট্রাক্টর’ তকমাও। এদিন রাজ্যসভায় এ তথ্য দিয়েছেন তৎকালীন অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী ভায়লার রবি। তবে, শাস্তি পেয়েও টনক নড়েনি ওই পাইলটের। সুমিতের সার্ভিস রেকর্ড বলছে, ২০১০ সালের মার্চ এবং ২০১৭ সালের এপ্রিলে ককপিটে ওঠার আগে ‘ব্রেথ অ্যানালাইজার’ পরীক্ষায় ফের ধরা পড়েছিলেন সুমিত।মহিলা পাইলটদের প্রতি অগাধ আস্থা ছিল মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। দু’বছর আগে এক্স হ্যান্ডলে সেই আস্থার কথা অজিত জানিয়েছিলেন অকপটে। কাকতালীয় ব্যাপার হল, বুধবার তাঁর দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে সহকারী ছিলেন মহিলাই। এদিনের দুর্ঘটনায় বিমানের সেই সহকারী পাইলট শম্ভাবী পাঠকেরও মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালের পোস্টে মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘বিমানে বা হেলিকপ্টারে ভ্রমণের সময় যদি দেখি সেগুলি নিরাপদে ল্যান্ড করেছে, তখন বুঝে যাই পাইলট একজন মহিলা।’দিল্লির ছোট বিমান পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চারসের ফার্স্ট অফিসার ছিলেন ২৫ বছরের শম্ভাবী। এদিন উড়ান শুরুর আগে গোয়ালিয়রের বসন্ত বিহারের বাসিন্দা ঠাকুমা মীরা পাঠককে ‘সুপ্রভাত’ লেখা মেসেজ পাঠিয়েছিলেন শম্ভাবী।অজিতদের বিমানে ছিলেন পিঙ্কি মালিও। ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে তিনি ছিলেন অজিত পাওয়ারের সহযাত্রী। বাবাকে জানিয়েছিলেন, ‘কাল কথা হবে।’ সেই শেষবার মেয়ের সঙ্গে কথা হয় শিবকুমার মালির। এখন শুধু কেঁদে চলেছেন শিবকুমার। আর বলছেন, ‘সে সময় আর কখনও আসবে না।’ শিবকুমার জানান, আগে রাষ্ট্রপতি, বেশ কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক নেতারও সফর সঙ্গী হয়েছেন পিঙ্কি। অজিতের সঙ্গে এটা ছিল তাঁর চতুর্থ বিমান সফর।