পুনে ও মুম্বই: ‘বারামতীর মাটি, পাওয়ার পরিবারের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি।’ মহারাষ্ট্র রাজনীতিতে সুবিদিত এই স্লোগান। কাকা শারদ পাওয়ারের ছত্রছায়ায় এই বারামতী থেকেই অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্থান। তাঁর ‘দাদা’ হয়ে ওঠা। সেই ১৯৬৭ সাল থেকে বারামতী হল পাওয়ার পরিবারের খাসতালুক। প্রথমে শারদ পাওয়ারের অধীনে, তারপর ১৯৯১ সাল থেকে অজিতের দখলে থেকেছে এই আসন। প্রথমে কংগ্রেসের টিকিটে, তারপর ১৯৯৯ সালে এনসিপি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ‘ঘড়ি’ প্রতীকে। আবার পারিবারিক বিবাদের জেরে ২০২৩ সালে এনসিপিতে বিভাজনের সূত্রে কাকা-ভাইপো ঠান্ডাযুদ্ধেরও সাক্ষী থেকেছে বারামতী। ২০২৪ সালে বারামতী লোকসভা আসনে শারদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলের বিরুদ্ধে স্ত্রী সুনেত্রাকে প্রার্থী করেছিলেন অজিত। ততদিনে এনসিপির নাম ও ঘড়ি প্রতীক অজিতের দখলে। তবে সেই লড়াইয়ে অজিতের স্ত্রীকে হারতে হয়েছিল শারদের এনসিপি (এসপি) টিকিটে প্রার্থী হওয়া তাঁর কন্যা সুপ্রিয়ার কাছে। আবার কাকতালীয় হল, অজিতের রাজনৈতিক উত্থান যে মাটি থেকে, সেই বারামতীতেই বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল তাঁর। ঘটনাচক্রে, পাওয়ার পরিবারের দুই অংশ সম্প্রতি ফের কাছাকাছি আসার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এই অবস্থায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ফলে শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকারে শূন্যতা তৈরি হল না। একইসঙ্গে এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হল।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ফলে এনসিপিতে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হতে পারে। কারণ, অজিত ‘দাদা’র অবর্তমানে দলে সুস্পষ্টভাবে ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ বলে কেউ নেই। অশক্ত শারদ পাওয়ারের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে এপ্রিল মাসে। তাঁর পক্ষে আর দলের হাল ধরা সহজ হবে না। অজিতের এনসিপি ফের শারদের এনসিপি (এসপি)-র সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে গুঞ্জন তুঙ্গে। তেমনটা হলেও নেতৃত্ব কার হাতে উঠবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য। তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়ও রয়েছেন। তবে তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর সভাপতি সুনীল তাতকারে ও জাতীয় কার্যকরী সভাপতি প্রফুল প্যাটেল হেভিওয়েট নাম হলেও অজিতের মতো সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁদের নেই। অপর প্রবীণ নেতা ছগন ভুজবলের জনভিত্তি থাকলেও তিনি অসুস্থ। আবার শারদ পাওয়ারের মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে অন্যতম দাবিদার হলেও অজিত দাদার মতো রাজ্যজুড়ে তৃণমূল স্তরে যোগাযোগ তাঁর নেই। ফলে এনসিপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে।এনসিপির অস্তিত্বরক্ষা ও নেতৃত্ব সংকটের মতোই মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বে রাজ্যের এনডিএ সরকারকেও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। কারণ, বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে অজিত গোষ্ঠীর ৪১ জন এনসিপি বিধায়ক যাতে ফের শারদ পাওয়ারের দিকে চলে না যান, তা নিশ্চিত করা ফড়নবিশের সামনে এখন সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ। তেমনটা হলে কিন্তু মহারাষ্ট্র রাজনীতি ফের মহা নাটকের দিকে পা বাড়াবে।২৮৮ আসন বিশিষ্ট মহারাষ্ট্র বিধানসভায় এককভাবে বিজেপির হাতে রয়েছে ১৩২টি। মহাযুতি সরকারে একনাথ সিন্ধের শিবসেনাকে (৫৭টি আসন) লাগাম পরাতে অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা এই ৪১ বিধায়কই ছিল বিজেপির তুরুপের তাস। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কী অপেক্ষা করছে? প্রমাদ গুনছে বিজেপি।