যোগীরাজ্যে মন্ত্রিপুত্রের গাড়িতে পিষে মৃত্যু যুবকের, জখম দু’জন
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
লখনউ: ফের লখিমপুর খেরির ঘটনার ছায়া যোগীরাজ্যে। ২০২১ সালে লখিমপুর খেরিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিসের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪ কৃষক। আর সোমবার রাতে উত্তরপ্রদেশের ললিতপুরে প্রতিমন্ত্রী মনোহরলাল কোরির ছেলে নরেশের গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক মোটর সাইকেল আরোহীর। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও দু’জন। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন মন্ত্রীপুত্র এবং তাঁর সঙ্গীরা। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা শূন্যে গুলিও চালান। পুলিশ নরেশ এবং তাঁর বন্ধুদের আড়াল করছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।সোমবার রাতে মোটর সাইকেলে করে বারখেরা গ্রামে বাড়ি ফিরছিলেন শীবেন্দ্র (১৮), শঙ্কর সিং (৪৫) এবং অনুজ (২০)। জাখুরা থানা এলাকায় তাঁদের মোটর সাইকেলটিকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে নরেশের এসইউভি। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দুর্ঘটনার সময় এসইউভিটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার। জখমদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী ললিতপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁদের ঝাঁসি মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। সেখানে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় শীবেন্দ্রর। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে নরেশ এবং তাঁর চার বন্ধু ছিলেন। সকলেই ছিলেন মদ্যপ। গাড়ির ভিতরে মদের বোতল এবং প্লাস্টিকের গেলাসের সন্ধান মিলেছে। গাড়ির ভিতরের এয়ার ব্যাগগুলি সক্রিয় করা হয়। তবে দুর্ঘটনার পরেই গাড়ির কাচ বন্ধ হয়ে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ‘পালানোর জন্য পিছনের উইন্ডশিল্ড ভেঙেছিলেন নরেশরা। তবে গ্রামবাসীরা হাজির হওয়ায় ভয় দেখাতে তাঁরা গুলি চালাতে চালাতে পালিয়ে যান।’ মঙ্গলবার সকালে গাড়িটি উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। তবে পুলিশ আধিকারিকরা গিয়ে বুঝিয়ে বিক্ষোভ শামাল দেন এবং গাড়িটি উদ্ধার করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালু সিং বলেন, এসইউভিটি মন্ত্রী মনোহরলাল কোরির স্ত্রী কস্তুরী দেবীর নামে কেনা। দুর্ঘটনার সময় কে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।