অধিবেশনের শুরুতেই জি রাম জি আইনের বিরোধিতা, ভাষণ থামালেন রাষ্ট্রপতি
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিল পাশ হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সই করে আইনে পরিণত করার সিলমোহর দিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার সংসদে বিরোধিতা অনুভব করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন। সংক্ষেপে ভিবি-জি রাম জি। এদিন শুরু হল সংসদের বাজেট অধিবেশন। প্রথা মেনে প্রথমদিন যৌথ সভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণ। সেখানে অভিভাষণের শুরুতেই অস্বস্তিতে পড়েন দ্রৌপদী মুর্মু। সরকারের তৈরি করে দেওয়া ভাষণ পড়া শুরু করতেই কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আরএসপি সহ সমগ্র বিজেপি-বিরোধী উঠে দাঁড়ান। স্লোগান তোলেন ‘এসআইআর ওয়াপস লো।’ প্রবল প্রতিবাদের মধ্যেই অবশ্য রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ চালিয়ে যান। তবে ধাক্কা খান কিছুক্ষণ পরে। ভিবি-জি রাম জি আইনের উল্লেখ করে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের বাড়তি সুযোগ বলে বক্তব্য রাখতেই ফের বিরোধীদের প্রতিবাদের পারদ চড়ল। যোগ দিল শিরোমণি অকালি দলও।রাষ্ট্রপতি যত এই আইনের সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন, ততই বাড়ে বিরোধিতার স্বর। দাবি, নারেগা ওয়াপস লাও। নয়া বিল বাতিল করো। প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গেল কয়েক মিনিট। যা দেখে বক্তৃতা থামিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি। তাকালেন বিরোধী বেঞ্চের দিকে। তারপর সরকার পক্ষের বেঞ্চে। অস্বস্তিতে পড়লেন পাশে বসা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি ইশারায় বিরোধী সাংসদদের চুপ করতে অনুরোধ করলেন। কিন্তু কে শোনে?তাই বিরোধীদের স্বর ম্লান করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে পাশে বসা রাজ্যসভার দলনেতা জেপি নাড্ডা সহ পুরো ট্রেজারি বেঞ্চ জোর দিল টেবিল চাপড়ে। গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে তো দেখা গেল দু’ হাতে টেবিল চাপড়াচ্ছেন। সরকার-বিরোধী দুপক্ষের আচরণে লোকসভার কক্ষ হল উত্তপ্ত। বিরোধীরা চেষ্টা চালাল, জি রাম জি আইনের বিরোধ প্রতিষ্ঠায়। আর সরকার পক্ষ পালটা টেবিল চাপড়ের শব্দ বাড়িয়ে তা ম্লান করার চেষ্টা চালাল। উভয়পক্ষের আচরণ দেখে রাষ্ট্রপতি শুরু করে দিলেন বক্তৃতার পরের অংশ পড়তে। তবে বিরোধীরা প্রথমদিনেই বুঝিয়ে দিল, অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতেও প্রতিবাদে সোচ্চার হবে। রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে বক্তৃতায় বন্দেমাতরম থেকে বন্দে ভারত, সবই শোনা গেল।চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গ, অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরিতে বিধানসভার ভোট। তাই ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অভিভাষণের মঞ্চকে কৌশলে রাজনৈতিক কাজেও লাগাল মোদি সরকার। বন্দেমাতরমে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উল্লেখের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের স্বদেশি আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে এল অভিভাষণে। একইভাবে কেরল আর তামিলনাড়ুর দুই কবির কথা। বক্তৃতায় তিনবার শোনা গেল বাংলার নাম। বাকি সরকারের গত ১১ বছরের সালতামামি। বিকশিত ভারতের স্বপ্ন। যা শুনে বিরোধীদের এককথায় বক্তব্য, ‘ফাঁপা আওয়াজ।’