• রহস্য? সুপ্রিম কোর্টের অধীনে তদন্ত চান মমতা
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মহারাষ্ট্রের বিজেপি জোট ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অজিত পাওয়ার! ইঙ্গিত তেমনই ছিল। আর কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্রের এক বিরোধী নেতাই সেই দাবি করেছেন। তারপরই দুর্ঘটনা! ‘বিরোধীদের কি এই দেশে কোনও নিরাপত্তা নেই? সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চা‌ই। একমাত্র তাহলেই সত্যিটা জানা যাবে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সিগুলির উপর কোনো ভরসা নেই। সব এজেন্সি বিক্রি হয়ে গিয়েছে! এই দুর্ঘটনা প্রচণ্ড উদ্বেগজনক এক বার্তা দিচ্ছে।’ স্পষ্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তাও। সাতসকালে অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার খবরে যে ফিসফাস রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছিল, মমতার ‘রহস্যে’র ইঙ্গিত সেই ছাইচাপা আগুনে ঘি ঢেলেছে। প্রত্যেক বিরোধী দল সরব হতে শুরু করেছে এই মৃত্যুর নেপথ্য ‘রহস্য’ নিয়ে। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের অধীনস্থ এয়ারক্র্যাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর একটি টিম বুধবার বারামতীর দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা আস্থা জোগাচ্ছে না। তার প্রধান কারণ, আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া বিপর্যয়ের রিপোর্ট এখনও জমা পড়েনি।যে এয়ারস্ট্রিপে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে পাইলটদের উড়ানের জন্য কোনো নেভিগেশনাল সহায়তা প্রযুক্তি নেই। পাইলটদের সম্পূর্ণ রেডিও কমিউনিকেশন এবং পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করেই ল্যান্ডিং ও টেক অফ করতে হয়। একটি রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অথবা অন্য ভিআইপিদের জন্য এমন এয়ারস্ট্রিপে দিনের পর দিন কেন বিমান যাতায়াতের ব্যবস্থা? সকাল ৮টা ৩৫ নাগাদ ভিজিবিলিটি লো হওয়া সত্ত্বেও কেন এটিসি ল্যান্ডিংয়ের পক্ষে সিগন্যাল দিয়েছিল? রিড ব্যাক রেসপন্স দেওয়ার আগেই ক্র্যাশ করে লাইট ওয়েট চার্টার্ড বিমান। পাইলট ইন কমান্ডের শেষ মেসেজ কী ছিল? এরকমই একঝাঁক প্রশ্নের উত্তর নেই।সঞ্জয় গান্ধী, মাধবরাও সিন্ধিয়ার পর চার্টার্ড প্লেনের দুর্ঘটনা আবার ঘটল মঙ্গলবার। সময়কাল দীর্ঘ। তারপরও একের পর এক রাজনীতিবিদের মৃত্যু, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াতের মর্মান্তিক পরিণতি... তবে একটিও লাইট ওয়েট চার্টার্ড বিমান কিন্তু ভাঙেনি। এই প্রথম। একদিকে যেমন দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে তেমনই মহারাষ্ট্র রাজনীতির নাটকীয় মোড়। অজিত পাওয়ারের এনসিপির আর ‘নেতা’ নেই। তাঁর রেখে যাওয়া দল কি তাহলে আবার ভীষ্ম পিতামহ শারদ পাওয়ারের দলেই মিশবে? নাকি অজিতের দলের একঝাঁক বিধায়ককে টেনে নেবে বিজেপি? অজিতের দলের অবস্থানের উপর নির্ভর করছে মহারাষ্ট্র সরকারের ভারসাম্যও। একনাথ সিন্ধের শিবসেনা পুনরায় তাদের শক্তি প্রদর্শন করবে। কারণ, মহারাষ্ট্রে বিজেপির একক গরিষ্ঠতা নেই। অতএব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, প্রয়াত অজিত পাওয়ারের দলের বিধায়কদের সিদ্ধান্ত।ইন্ডিয়া জোট অথবা এনডিএ, সর্বত্রই উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। ২০২৩ সালে কাকা শারদ পাওয়ারের দল ভেঙে বিজেপি জোটে আসার পর তাঁর বিখ্যাত উক্তি ছিল, ‘আর কতদিন উপমুখ্যমন্ত্রী হয়ে থাকব?’ স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।
  • Link to this news (বর্তমান)