মুম্বই ও নয়াদিল্লি: সময়ের প্রতীক ‘ঘড়ি’। সুসময়ের, দুঃসময়েরও। ‘সুসময়ে’ কাকা শারদ পাওয়ারের কাছ থেকে এনসিপির রাশ ও দলীয় প্রতীক ‘ঘড়ি’ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ‘দুঃসময়ে’ তাঁর দগ্ধ দেহ শনাক্ত করতে হল হাতঘড়ি দেখেই! তিনি মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। অনুগামীদের অত্যন্ত কাছের ‘অজিত দাদা’। যে বারামতী থেকে সাতবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন, বুধবার সকালে সেখানেই বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৬ বছর বয়সি এই এনসিপি নেতার। এমন এক সময় দুর্ঘটনা, যখন রাজনৈতিক বিবাদ ভুলে ফের এক হওয়ার চেষ্টা করছিল পাওয়ার পরিবার। এমনকি সদ্য পুনে ও পিম্পরি চিঞ্চওয়াড়ের পুরভোটে হাত মিলিয়েই লড়ে শারদ-অজিত দুই বিবদমান গোষ্ঠী। পাঁচদিন আগে উদ্ধবপন্থী শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত দাবি করেছিলেন, বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে শারদের কাছেই ফিরছেন অজিত। ফলে আচমকা তাঁর মৃত্যুতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে।এদিন সকাল ৮টা ১০ মিনিট নাগাদ মুম্বই থেকে ছোটো চার্টার্ড বিমানে বারামতী রওনা হন অজিত। বিমানে ছিলেন দুই পাইলট, উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং একজন অ্যাটেনডেন্ট। আধঘণ্টা পর, অবতরণের ঠিক আগে বারামতীর এটিসিকে দৃশ্যমানতা কম থাকার কথা জানান পাইলট। পরে অবশ্য বলেন, রানওয়ে দেখা যাচ্ছে। সেই শেষ। আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মিনিটখানেকের মধ্যে বারামতী বিমানবন্দরের ১১ নম্বর রানওয়ে থেকে মাত্র ১০০ ফুট দূরে ভেঙে পড়ে বিমানটি। ডিজিসিএ জানিয়েছে, বিমানে থাকা পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বিমানটি পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের বিশাল গোলা দেখা যায়। এরপর ৪-৫টি বিস্ফোরণ। যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও আগুনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কারণ, পুড়ে দলা পাকিয়ে গিয়েছিল বিমানের ধাতব অংশগুলিও।সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরুর দিনেই এমন অঘটনে শোকের ছায়া পাওয়ার পরিবারে। এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শারদ পাওয়ার ও তাঁর মেয়ে সুপ্রিয়া সুলে দিল্লিতে ছিলেন। খবর পেয়ে তাঁরা পুনে ফিরে আসেন। অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা এবং দুই ছেলে পার্থ ও জয় বর্তমান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ বারামতীতেই বিদ্যা প্রতিষ্ঠান ময়দানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। মোদি এদিনই শোকবার্তায় লিখেছেন, ‘অজিত পাওয়ার সাধারণ মানুষের নেতা ছিলেন।’ তাঁর মৃত্যুকে ‘হৃদয়বিদারক’ ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। শোকপ্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সহ সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব।পৃথ্বীরাজ চ্যবন, উদ্ধব থ্যাকারে, একনাথ সিন্ধে ও দেবেন্দ্র ফড়নবিশ— মোট চারজন মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেছেন অজিত। তিন বছর আগে কাকা শারদ পাওয়ারের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহ আড়াআড়ি ভেঙে দিয়েছিল এনসিপিকে। এনডিএ সরকারে যোগ দিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হন অজিত। তবে সম্প্রতি পারিবারিক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। সেই ‘সুসময়’ আর দেখা হল না তাঁর।