নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: একদা বাম, পরবর্তীতে প্রিয়র গড়, বিগত বিধানসভা ভোটে সেখানেই পদ্মের রমরমা। কিন্তু এবার বিধানসভা ভোটে সেই কালিয়াগঞ্জে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া তৃণমূল। কালিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর অবর্তমানে পদ্ম ফুটলেও, বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিতে অসন্তুষ্ট সাধারণ ভোটারদের অনেকে। স্থানীয় বিধায়ক সৌমেন রায় বারবার দলবদল, সেইসঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে এসআইআরের হিয়ারিং পর্বে কালিয়াগঞ্জের মানুষের হেনস্থা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ঘাঁটি মজবুত করতে নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। তাদের আশা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিগত ১৫ বছরের উন্নয়ন, জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে মানুষ আস্তে আস্তে মুখ ফেরাচ্ছেন বিজেপির থেকে। স্বাভাবিকভাবে একগুচ্ছ বিষয়ের উপর ভর করে আসন্ন ভোটে একপ্রকার জয় নিশ্চিত বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস।তাদের বক্তব্য, আশাভঙ্গ করে এসআইআর বিজেপিকে অনেকটা ধাক্কা দিয়েছে। মেরুকরণের রাজনীতি এই এলাকায় বিগত বছরগুলিতে মাথাচাড়া দিলেও, সেই ভ্রম সংশোধন করছেন অনেকে। সঙ্গে বিজেপির বিধায়কের দলবদলু ইমেজ এসবের জন্য দায়ী। ভোটে জিতে তাঁর আচমকা তৃণমূলে যোগদান। পরে ঘরওয়াপসি। অন্যদিকে তৃণমূল মুখে যাই দাবি করুক, কার্যক্ষেত্রে কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় সেভাবে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করতে অপারগ তৃণমূল। আসন্ন ভোটেও তা সম্ভব নয় বলেই দাবি বাড়তি আত্মবিশ্বাসী বিজেপি জেলা নেতৃত্বের।উত্তর দিনাজপুর জেলার ন’টি বিধানসভার মধ্যে কালিয়াগঞ্জ অন্যতম। এই বিধানসভার অধীনে ১ টি পুরসভা। ৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েত। আবার এই বিধানসভার আওতায় আছে রায়গঞ্জ ব্লকের দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাও। যথাক্রমে বড়ুয়া এবং বীরঘই। এই বিধানসভার ৭৬ শতাংশ হিন্দু ভোটার। যার আবার সিংহভাগই রাজবংশী। যার ডিভিডেন্ট গত বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে ভরপুর পেয়েছে বিজেপি। একুশের বিধানসভা ভোটে কালিয়াগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী সৌমেন রায় ১ লক্ষ ১৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে জয়যুক্ত হয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে তিনি ২১ হাজার ৮২০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটেও বিজেপির পাল্লা ভারী ছিল। যার উপর ভিত্তি করে কালিয়াগঞ্জ আসন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, জেলায় এবার আমরা আরও ভালো ফলের আশা করছি। তারমধ্যে থেকে আমরা অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী কালিয়াগঞ্জ আসন নিয়ে। মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসছে। এসআইআরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, তৃণমূলের ভূমিকা, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবার ভোটে তার বহিঃপ্রকাশ তৃণমূল টের পাবে। অন্যদিকে, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা প্রসঙ্গে তৃণমূল জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, মেরুকরণ নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের উন্নয়নের ধারাই এবার ভোটে আমাদের অস্ত্র। পুরোপুরি সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করেই কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তারজন্য সেখানে ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কার্যকলাপ চলছে। উন্নয়নের পাঁচালি, জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে আমরা কালিয়াগঞ্জে জোড়াফুল ফোটানোর জন্য তৈরি হচ্ছি।