• বিধানসভা কড়া নাড়লেও একদা গড় চোপড়ায় বামেরা শীতঘুমেই আন্দোলন,কর্মসূচি না থাকায় দলের মধ্যেই উঠছে প্রশ্ন
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • মুতাহার কামাল, চোপড়া: কয়েক মাস পর বিধানসভা নির্বাচন হলেও চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বাম শিবিরের রাজনৈতিক তৎপরতা কার্যত অদৃশ্য। একসময় চোপড়ায় সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে বামেদের ঝাঁঝালো আন্দোলন রাজনৈতিক বাতাবরণ কাঁপিয়ে দিত, আজ সেখানে সিপিএম যেন নামেই বিরোধী শক্তি—মাঠে নয়। নতুন বছরের শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ কর্মসূচি নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছচ্ছে। বিজেপি দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে আগাম নির্বাচনী বার্তা দিচ্ছে। কংগ্রেসও নিজেদের মতো করে ছোট ছোট কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ এই রাজনৈতিক তৎপরতার মাঝখানে বামেদের অবস্থান কার্যত শূন্য বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।দলেরই একাংশ কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, বর্তমানে সিপিএমের কর্মসূচি বলতে জেলা কমিটি থেকে পাঠানো সার্কুলারের হুবহু কপি-পেস্ট রূপায়ণ। স্থানীয় ইস্যু, জনসমস্যা বা মানুষের ক্ষোভকে সামনে রেখে কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের ছাপ নেই বললেই চলে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলের একাংশ নেতাকর্মী। চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বাম শিবির বলতে কার্যত একমাত্র সিপিএমই রয়েছে, অন্য কোনও শরিক দল না থাকলেও তাতেও মাঠে নামার তাগিদ দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে কবে নির্বাচনী প্রচারে ঝাঁপাবে সিপিএম। নাকি কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট সমীকরণের দিকেই তাকিয়ে সময় কাটাচ্ছে দল। যদিও এখনও নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি, তবুও অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেখানে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে, সেখানে বাম শিবিরের এই নীরবতা অস্বাভাবিক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।বিগত কয়েক বছর ধরেই এলাকায় বামেদের কোনো বড়সড়, ঝাঁঝালো আন্দোলন চোখে পড়েনি। বর্তমানে দলীয় কর্মসূচি মূলত পার্টি অফিসের সামনে পতাকা উত্তোলন ও শহিদ বেদিতে মাল্যদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ একসময় সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ে যেসব বামেদের পথে দেখা যেত, তাদের আজ কার্যত গা ঢাকা দেওয়া অবস্থান এলাকাবাসীর মধ্যেও প্রশ্ন তুলেছে। যদিও বাম নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, আন্দোলন বন্ধ নেই। তাঁদের বক্তব্য, বাংলা বাঁচাও যাত্রা চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্র দিয়ে গিয়েছে। এসআইআর, পরিযায়ী শ্রমিক হেনস্তা সহ একাধিক ইস্যু নিয়ে হাটে বাজারে মিছিল পথসভা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।সিপিএমের চোপড়া ২নং এরিয়া কমিটির সম্পাদক বিদ্যুৎ তরফদার বলেন, প্রতিদিনই সাংগঠনিক কর্মসূচি চলছে, বড় কর্মসূচি নিয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে দ্রুত আমরা মাঠে নামব।শ্রমিক নেতা ফাজিরুল ইসলাম বলেন, চোপড়া ব্লকের একাধিক চা বাগান বন্ধ সহ বিভিন্ন ইস্যুতে চা শ্রমিকদের নিয়ে একাধিক আন্দোলন কর্মসূচি করা হয়েছে।প্রতিদিনই ছোটখাট কর্মসূচি করা হয়। ডিওয়াইএফের চোপড়া দক্ষিণ লোকাল কমিটির সম্পাদক নুর জামাল বলেন, ছাত্র-যুবদের নিয়ে এলাকায় যুব সংগঠনের উদ্যোগে ম্যারাথন, ফুটবল, ক্যারম সহ বিভিন্ন কর্মসূচি করা হয়। অন্যদিকে কৃষক সংগঠনের জেলা কমিটির সদস্য মনসুর আলম জানান, কৃষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি। আমরা সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে এখনো মাঠে রয়েছি। বিধানসভা ভোটের আগে এই নিষ্প্রভতা কাটিয়ে বাম শিবির আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
  • Link to this news (বর্তমান)