নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: এখনও কোনও নিয়োগপত্র পাননি কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সঞ্চারী রায় মুখোপাধ্যায়। নিয়ম অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়োগপত্র দেন রাজ্যপাল। রাজভবন থেকে সেই নিয়োগপত্র উচ্চশিক্ষা ভবনে পৌঁছলে সেখান থেকেই বাকি প্রক্রিয়া হওয়ার কথা। কিন্তু সঞ্চারী রায় মুখোপাধ্যায় নিজে এখনও পর্যন্ত কোনও জায়গা থেকেই কোনও নিয়োগপত্র পাননি। ফলে উপাচার্য হিসেবে তিনি কবে কাজে যোগ দেবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাধবচন্দ্র অধিকারীও এনিয়ে কিছু জানেন না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। দীর্ঘদিন ধরে এখানে উপাচার্য না থাকায় গবেষণা, ফিনান্স কমিটির বৈঠক, এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক, সমাবর্তন সহ একাধিক কাজ আটকে রয়েছে।সম্প্রতি রাজ্যের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সঞ্চারী রায় মুখোপাধ্যায়ের নাম শোনা যায়। তিনি বলেন, এখনও কোনও রকম খবর পাইনি। ফলে বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। আগে চিঠি পাই, তারপরেই কিছু বলা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাধবচন্দ্র অধিকারী বলেন, উপাচার্যের আসার বিষয়ে এখনও কিছু এগয়নি। আমার সঙ্গে তাঁর (সঞ্চারী রায় মুখোপাধ্যায়) কথা হয়েছে। যদি চিঠি পেয়ে যান তাহলে হয়ত তিনি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কাজে যোগ দেবেন।পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ স্থায়ী উপাচার্য ছিলেন দেবকুমার মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর থেকে আর কোনও স্থায়ী উপাচার্য পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়। নিখিলচন্দ্র রায় অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে কাজে যোগ দিয়ে বেশ কিছুদিন দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর দেড় বছর অতিক্রান্ত হতে চলল। এই দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না থাকার কারণে চরম সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব থেকে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে গবেষণা ও অর্থনৈতিক বিষয়ে। ডিগ্রি প্রদান, পদোন্নতি, ছুটি ইত্যাদি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উপাচার্যের অনুমতি প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই পদ শূন্য থাকায় এসব বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে বিশ্ববিদ্যালয়কে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের।