• ইতিহাসের সাক্ষী থাকল ধূপগুড়ি, প্রথম সিজারিয়ান বেবির নাম রাখা হল উৎসব
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • উজ্জল রায়, ধূপগুড়ি: বুধবার ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের ইতিহাসে লেখা রইল এক আবেগঘন অধ্যায়। যে হাসপাতালে বছরের পর বছর অপেক্ষা জমে ছিল, সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল এক শিশুর কান্নার সঙ্গে সঙ্গেই। উদ্বোধন হল বহু প্রতীক্ষিত প্ল্যান সিজারিয়ান সেকশন। আর সেই মুহূর্তে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে জন্ম নিল নতুন এক আশার আলো। এই হাসপাতালের প্রথম সিজারিয়ান প্রসবে পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন ধূপগুড়ির পূর্ব মল্লিকপাড়ার উর্মিলা রায়। সদ্যোজাতের কান্না ভেসে আসতেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল গোটা হাসপাতাল। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী সকলের চোখেমুখে ফুটে উঠল স্বস্তি, তৃপ্তি আর আনন্দ। বহুদিনের লড়াই। বহুদিনের স্বপ্ন সব মিলিয়ে সেই মুহূর্তটা হয়ে উঠল আবেগে ভরা এক ইতিহাস। খুশিতে আপ্লুত হয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অসীম হালদার শিশুটির নাম রাখলেন ‘উৎসব’।নামটা যেন প্রতীক কারণ উৎসবের জন্মের সঙ্গেই সত্যিই উৎসব শুরু হয়ে গেল গোটা হাসপাতালে। হাসপাতালজুড়ে তখন হাসি, ওয়ার্ডে মিষ্টি বিতরণ। ধূপগুড়ির ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ অঙ্কুর চক্রবর্তী নিজেই মিষ্টি এনে চিকিৎসক-নার্সদের হাতে তুলে দেন।এদিন শুধু উর্মিলাই নন, আরও দু’জন মা নিরাপদে সন্তানের মুখ দেখলেন সিজারিয়ান প্রসবে। তাঁরা হলেন দিপ্পি অধিকারী ও খাদিজা বেগম। ভোটের মুখে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে সিজার প্রসব ব্যবস্থা চালু হওয়ায় খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে ধূপগুড়ি মহকুমাজুড়ে। যে মায়েদের এতদিন প্রসব যন্ত্রণার সময় ছুটতে হতো জলপাইগুড়ি বা মালবাজারে, তাঁদের চোখে এদিন ছিল ভরসার দিন, স্বস্তির দিন। স্বাস্থ্যদপ্তরের এই উদ্যোগে বহু মায়ের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা আজ অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন ধূপগুড়িবাসী।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার থেকেই প্রাথমিকভাবে প্ল্যান সিজারিয়ান সেকশন চালু করা হয়েছে। আগামী দিনে ধাপে ধাপে এই পরিষেবা আরও উন্নত করা হবে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, আমরা আজ খুশি। এখানে পরিকাঠামো আরও উন্নত করার চেষ্টা করছি।
  • Link to this news (বর্তমান)