রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছে ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’,সিনেমার মাধ্যমে প্রচার ও জনসংযোগ তৃণমূলের
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, চোপড়া: উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচির পর এবার নতুন ধাঁচে জনসংযোগের পথে হাঁটা শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ব্লকের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে এখন বিনোদনের মেজাজ। তবে এটি নিছক বিনোদন নয়,জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠছে সরকারি প্রকল্পের খতিয়ান। রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজগুলিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে শুরু হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্র ‘লক্ষ্মী এলো ঘরে’-র প্রদর্শনী। চোপড়া ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে এই চলচ্চিত্রটি দেখানো হচ্ছে। সিনেমাটির মূল বিষয় হল-রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল কীভাবে একটি সাধারণ পরিবারের জীবন বদলে দিচ্ছে। গল্পের ছলে স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের ঘরে কীভাবে পৌঁছচ্ছে, তা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান জানান, বিগত কয়েক বছরে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের জন্য যে অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, তা বিনোদনের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ‘উন্নয়নের পাঁচালি’র মাধ্যমে যে বার্তা আমরা শুরু করেছিলাম, এই প্রদর্শনী তাকে আরও মজবুত করবে। মানুষ সিনেমাটি উপভোগ করছেন এবং সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে আরও সচেতন হচ্ছেন।আগামী কয়েকদিন ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দফায় দফায় এই প্রদর্শনী চলবে। এই কর্মসূচি সফল করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন তৃণমূলের ব্লকের নেতারা। কোথাও বিধায়ক হামিদুল রহমান নিজে উপস্থিত থাকছেন, আবার কোথাও দলের ব্লক সভাপতি প্রীতিরঞ্জন ঘোষ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কণিকা ভৌমিক মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। এমনকী সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে সিনেমাটি দেখছেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এই ডিজিটাল প্রচার যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গতানুগতিক বক্তৃতার চেয়ে সিনেমার গল্পের মাধ্যমে মানুষের মনের কাছাকাছি পৌঁছনো অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে বিনোদনের সুযোগ কম, সেখানে এই জায়ান্ট স্ক্রিনের প্রদর্শনী ব্যাপক ভিড় টানছে। সব মিলিয়ে, চোপড়ায় উন্নয়নের প্রচার এখন বড়পর্দায়। দলের ব্লক সভাপতি জানিয়েছেন, কর্মীদের বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে অঞ্চলে অঞ্চলে এমনকী বুথে বুথে প্রদর্শনী করা হয়। দলীয় কর্মীরা তো দেখবেই, সাধারণ মানুষকেও দেখানোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।