তৃণমূলের ৯৪১ ভোট কব্জায় নিতে ময়দানে বিজেপি,সংখ্যালঘু এলাকায় নোটিসের হিড়িক!
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি:জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পঞ্চায়েতগুলিতে এসআইআর শুনানির নোটিসের হিড়িক। মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি লোককে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস ধরানো হয়েছে। রেহাই পাচ্ছেন না রাজবংশী কিংবা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও। যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে।একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি সদর কেন্দ্রে মাত্র ৯৪১ ভোটে জয়ী হন তৃণমূলের প্রদীপকুমার বর্মা। ওই নির্বাচনে ১০টি অঞ্চল ও জলপাইগুড়ি শহরের মধ্যে রাজ্যের শাসক দলের সবচেয়ে বেশি লিড (৩৮০০ ভোট) আসে গড়ালবাড়ি পঞ্চায়েত থেকে। সেই পঞ্চায়েতেই এখন এসআইআর শুনানির নোটিসের হিড়িক। তৃণমূলের অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই পঞ্চায়েতে ১৮ হাজারের কিছু বেশি ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে আনম্যাপড হিসেবে তিনশোর মতো ভোটারকে নোটিস ধরানো হয়। এরপর লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস ধরানো হয়েছে প্রায় সাত হাজার ভোটারকে। একই ছবি বাহাদুর পঞ্চায়েতের। প্রায় ২২ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার এখানে। এছাড়াও আছে রাজবংশী ও অন্য সম্প্রদায়। এসআইআর নোটিসের হাত থেকে নিস্তার মিলছে না তাঁদেরও। ২২ হাজারের কাছাকাছি ভোটার বাহাদুর পঞ্চায়েতে। আনম্যাপড প্রায় ৯০০ ভোটারকে নোটিস ধরানো হয়। এছাড়া এখনও পর্যন্ত লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস পেয়েছেন প্রায় ১৬০০ জন।গত বিধানসভা নির্বাচনে বাহাদুর পঞ্চায়েত থেকেও ভালো ভোট লিড পেয়েছিল তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, একুশের ভোটের নিরিখে যেসব পঞ্চায়েতে তাদের লিড রয়েছে, সেখানেই এসআইআরকে হাতিয়ার করে মানুষকে চরম হয়রানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে চক্রান্ত চলছে।তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা দলের বিএলএ-১ চন্দন ভৌমিকের তোপ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ৪০ শতাংশ ভোটারকে কারণ ছাড়াই নোটিস ধরানো হয়েছে, এমন উদাহরণ আছে। তবে রাজবংশী কিংবা অন্য সম্প্রদায়ের ভোটাররাও রেহাই পাচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম কাটতে এসব বিজেপির চক্রান্ত।সরাসরি না বললেও ভোট বৈতরণী পার করতে এসআইআর তাঁদের একমাত্র ভরসা, কার্যত স্বীকার করেছে গেরুয়া পার্টির নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, আমরা চাই স্বচ্ছ ভোটার তালিকা। আর এজন্য এসআইআর জরুরি। সদর বিধানসভায় যে সংখ্যক নামই বাদ যাক না কেন, আমরা জিতব।তৃণমূলের গড়ালবাড়ি অঞ্চল সভাপতি মফিদার রহমান বলেন, এখানে ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার। ম্যাপিং হয়ে যাওয়ার পরও লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করে যেভাবে শুনানির নোটিস ধরানো হচ্ছে তাতে স্পষ্ট, যেনতেন প্রকারে বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া। এটা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দাবি করে মফিদার বলেন, গত বিধানসভায় এই অঞ্চল থেকে আমরা ৩৮০০ ভোটে লিড দিই। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও আমরা গড়ালবাড়ি থেকে ৩৫৫৪ ভোটে লিড দিয়েছি। তাই ছাব্বিশের ভোটে এসআইআরকে হাতিয়ার করে এখানে বৈধ ভোটারের নাম কাটার ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি।তৃণমূলের বাহাদুর অঞ্চলের প্রাক্তন সভাপতি জয়নাল আবেদিন বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে এখানে ৬৯০ ভোটে লিড ছিল দলের। সেকারণে এসআইআর করে বৈধ ভোটারের নাম কাটার চক্রান্ত করছে বিজেপি।