• একদিনে উত্তরে ২ লক্ষের বেশি উপভোক্তা পেলেন বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তির টাকা,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গ্রামবাসীরা
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: কেন্দ্রীয় সহায়তা অমিল। তা হলেও বুধবার একদিনে উত্তরবঙ্গে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩৩৯ জন গ্রামবাসীকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা বিধানসভা ভোটের মুখে গ্রামীণ রাজনীতিতে মাস্টার স্ট্রোক। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত উপভোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার অর্থনৈতিক অবরোধ করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে রয়েছেন। কাজেই, দিদির ‘নুন খেয়েছি। এখন গুণ গাইছি’।এদিন বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তাদের মধ্যে টাকা বিলি নিয়ে প্রতিটি জেলায় অনুষ্ঠান করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা এবং জেলা পরিষদ সহ ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা ছিলেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন উত্তরবঙ্গে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩৩৯ জন উপভোক্তার মধ্যে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা বিলি করা হয়। যা ৬০ হাজার টাকা করে। এমরমধ্যে কোচবিহার জেলায় উপভোক্তার সংখ্যা সর্বাধিক, ১ লক্ষ ৮৬ হাজার। এজন্য বাণেশ্বরে মূল অনুষ্ঠান করা হয়। প্রথত কিস্তিতে জেলায় ১০২ কোটি টাকা বিলি করা হয়। জলপাইগুড়ি জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘর বরাদ্দ হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৮টি। এরমধ্যে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে উপভোক্তার সংখ্যা সর্বাধিক, ৯৮৮২ জন। এজন্য ঘুঘুডাঙা বাজারে একটি অনুষ্ঠান করা হয়।এদিন আলিপুরদুয়ার জেলায় ঘর পান ৪৫ হাজার ৮৫৫ জন। শিলিগুড়ি মহকুমায় ঘর পাচ্ছেন ১১ হাজার ৪৩৬ জন। যারমধ্যে ফাঁসিদেওয়া ব্লকে উপভোক্তার সংখ্যা সর্বোচ্চ, ৫২৯৬। এরবাইরে খড়িবাড়িতে ৩৪৩১, নকশালবাড়িতে ১৬২৯ ও মাটিগাড়ায় ৪৯০ উপভোক্তা রয়েছেন। এজন্য এদিন মায়াদেবী ক্লাবের মাঠে একটি অনুষ্ঠান করে জেলা প্রশাসন। মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও ১০০ দিনের কাজের টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। আবাস যোজনা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ওরা আটকে রেখেছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার অর্থনৈতিক অবরোধ করেও বাংলাকে রুখতে পারছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলা এগিয়ে চলেছে।এদিকে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা পেয়ে উচ্ছ্বসিত উপভোক্তারা। মাটিগাড়ার নয়াবস্তির বাসিন্দা চারুবালা রায় বলেন, পাকা বাড়ির স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। তা এতদিনে পূরণ হতে চলেছে দিদির হাত ধরে। মাটিগাড়ার আরএক গৃহবধূ সবিতা দাস বলেন, ঘরের জন্য বহু জায়গায় দরবার করেছি। অবশেষে প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পেলাম। এতে ভালো লাগছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার উপভোক্তাদেরও একই উপলব্ধি। সকলেরই বক্তব্য, দিদি’র নুন খেয়েছি। তাই তাঁর গুণ তো করতেই হবে।গ্রামবাসীদের এমন মতামত ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, বিধানসভা ভোটের মুখে ঘর বিলির টাকা দিয়ে পদ্ম শিবিরকে ব্যাকফুটে ফেলে দিলেন মমতা। বিজেপি নেতা তথা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন অবশ্য বলেন, এতে ভোটে চিঁড়ে ভিজবে না। • কোচবিহারে চেক বিলি। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)