উন্নয়ন নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা,তফসিলি ভোটাররাই ঠিক করে দেবেন প্রার্থীর ভাগ্য
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
সন্দীপন দত্ত ,মালদহ: চাবিকাঠি তফসিলি ভোটারদের হাতেই। গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রে এবারও তফসিলি, মতুয়া, রাজবংশীরা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবেন বলে কার্যত একমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের ভোট যাদের ঝুলিতে যাবে, এই আসনও তাদের দখলে থাকবে। তবে, লড়াই যে সব দলের কাছেই কঠিন, তা নিয়ে প্রশ্ন নেই।তফসিলি, মতুয়া, রাজবংশী এবং আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়ে ভোটের মুখে তাই শুরু হয়েছে তৃণমূল-বিজেপির চাপানউতোর। একদিকে রাজ্যের শাসক দল এই কেন্দ্রের তফসিলিদের উন্নয়নের ফিরিস্তি শোনাচ্ছে। আবার বিরোধী বিজেপি বিধায়ক বলছেন, গত ১৫ বছরে গাজোল যেখানে ছিল, সেখানেই আছে। এখানে উন্নয়নের আলো পৌঁছয়নি।গত বিধানসভা ভোটে গাজোলে জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ০.৮১ শতাংশ ভোট। তৃণমূল প্রার্থী বাসন্তী বর্মনের থেকে মাত্র মাত্র ১ হাজার ৭৯৮ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হন বিজেপির চিন্ময় দেব বর্মন। এবার অবশ্য বিজেপির একাংশ প্রকাশ্যে নতুন প্রার্থীর দাবি তুলেছেন। গুরুত্ব না দিলে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানোর মতো হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা। শুরু হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মঞ্চ গড়ে আন্দোলনও।বিক্ষোভের সেই আগুনে হাওয়া লাগলে ষোলো আনা ফায়দা পাবে তৃণমূল। তবে,তাদের ভোটের ইস্যু উন্নয়নই। সঙ্গে এসআইআর পর্বে চূড়ান্ত হয়রানি,ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়েও সরব হবে শাসক দল। একই সঙ্গে বিজেপি বিধায়কের ব্যর্থতার কথাও প্রচারে তুলে ধরার পরিকল্পনা কষছে তারা।বিজেপি বিধায়কের কথায়, আদিবাসী, মতুয়া, রাজবংশীদের দাবি সত্ত্বেও ১৫ বছরে এখানে পুরসভা তৈরি করতে পারেনি রাজ্য সরকার। তফসিলি বোনদের জন্য মহিলা কলেজ, কারিগরি শিক্ষার কলেজ, বাস টার্মিনাস সহ একাধিক দাবি আমরা পূরণ করব।মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের গাজোল অন্যতম পুরনো বিধানসভা কেন্দ্র। ১৯৫১ সালে গঠিত এই আসনটি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের হিসেবে অনুযায়ী, গাজোল বিধানসভার মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৬ জন। যার ৬০ শতাংশই তফসিলি জাতিভুক্ত। এই ৬০ শতাংশের মধ্যে আবার ৪০ ভাগ মতুয়া সম্প্রদায়ের। বাকি রাজবংশী ভোটার। এছাড়াও এই বিধানসভায় প্রায় ১৭ শতাংশ আদিবাসী ভোটার আছে। কুড়ি শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত।তৃণমূলের মালদহ জেলার মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী, রাজবংশী, মতুয়াদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন বোর্ড, পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে গাজোলের বিভিন্ন এলাকায় পাকা রাস্তা তৈরি করছেন। গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি এখানে ১ লক্ষ ৬৫৫ ভোট পায়। তাঁদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে তৃণমূল পেয়েছিল ৯৮ হাজার ৮৫৭ ভোট। শতাংশের নিরিখে বিজেপি ৪৫.৫ এবং তৃণমূল প্রার্থী পান ৪৪.৬৯ শতাংশ ভোট।কমিশন সূত্রে খবর,লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের নাম রয়েছে। খসড়া তালিকায় মৃত, অন্যত্র চলে যাওয়া এবং দুই জায়গার ভোটার তালিকায় নাম থাকার কারণে এখানে প্রায় সতেরো হাজার মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। কিছু সংখ্যক আনম্যাপড আছেন। সেই হিসেবও কষতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি।