সুমন তেওয়ারি, রানিগঞ্জ: এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানি বুমেরাং হয়েছে বিজেপির! দলের সর্বভারতীয় সভাপতির অবস্থান বদল থেকেই উঠে এসেছে প্রশ্ন। এতদিন পর্যন্ত এসআইআরকে সঠিক বলে দাবি করা বিজেপি নেতাদের উল্টো পথে হাঁটলেন নীতিন নবীন। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন যাঁর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষই। তৃণমূলের দাবি, মিথ্যাকে হাতিয়ার করে আরও একবার বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ এই শব্দ এখন বাংলাবাসীর কাছে আতঙ্ক। যে সব ভোটারের সব নথি ঠিক, তাঁদের নামের বাংলা বানান এআই দিয়ে ইংরেজি করতে গিয়ে পালটে দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের এআই। যার খেসারত দিতে হচ্ছে মানুষকে। নথি নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে তাঁকে প্রমাণ করতে হচ্ছে তাঁর নথি সঠিক। এনিয়ে আসানসোল থেকে কাকদ্বীপ, দীঘা থেকে দার্জিলিংয়ের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি বিজেপির প্রতিও মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। সেই আভাস পেয়েই হয়রানির দায় মুখ্যমন্ত্রীর দিকে চাপিয়েছেন নীতিন নবীন। দুর্গাপুরের সভা থেকে তিনি বলেন, এসআইআর নিয়ে মমতা দিদি খেলা করছে। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক ডিএম, এসপি, এসডিওদের আপনি কাঠের পুতুলের মতো ব্যবহার করছেন। তাঁদের দিয়ে নোটিস পাঠিয়ে মানুষকে হয়রান করাচ্ছেন। যুবক, ডাক্তার থেকে পদক জয়ী মানুষজন।রাজনৈতিক মহল একে বিজেপির ড্যামেজ কন্ট্রোল হিসাবেই দেখছেন। নোবেল পদক জয়ী অর্মত্য সেনকে শুনানি নোটিস করা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নোটিস দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। অন্যদিকে সেই সময়ে শিল্পাঞ্চলে এসে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিজেপি এমপি সুকান্ত মজুমদার নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, নিয়ম সবার জন্য এক। তাঁর নাম ভোটার তালিকায় থাকারই কথা নয়। জেলায় জেলায় সর্বদলীয় বৈঠকে মানুষের এই হয়রানি নিয়ে সরব সুর চড়িয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম তখন তাঁকে সমর্থন করেছে বিজেপি প্রতিনিধিরা। সেই বিজেপির সর্বভারতীয় নেতাই এখন হয়রানি দায় চাপাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। প্রশাসন মহল সূত্রে দাবি, তাঁর জানা উচিত নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময়ে আধিকারিকদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকে।রাজ্যের পঞ্চায়েত ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, বিজেপির চাপে নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তাড়াহুড়ো করেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয়রান করেছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিন থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এখন মিথ্যাচার করে মুখ রক্ষার চেষ্টা হচ্ছে। নীতিনজির বোঝা উচিত এটা বাংলা, এখানের মানুষ অনেক বেশি রাজনৈতিক সচেতন।অন্যদিকে এই মন্তব্য করার পাশাপাশি দুর্গাপুরের সভা থেকে নীতিন নবীনের ‘জয় বাঙ্গাল’ স্লোগানকেও কটাক্ষ করছে তৃণমূল। তৃণমূলের স্লোগানও বিজেপি ধার নিতে হচ্ছে বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।অন্যদিকে রানিগঞ্জের সাংগঠনিক বৈঠকে সংগঠনের বেহাল দশা সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, বিভিন্ন বুথের বুথ কমিটি দেখে অসন্তুষ্ট নীতিন নবীন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতি বুথে কমপক্ষে ২০-২৫ জন সক্রিয় কর্মী থাকতে হবে। মহিলা কর্মী বাড়ানোর উপরও জোর দিয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে মণ্ডল সভাপতিকে বৈঠক করার নির্দেশ দিয়েছেন।