• তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর লাইন আমারই করা,সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে তোপ মমতার
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর লাইন আমারই করা। ওরা ফিতে কেটেছে। বুধবার হুগলির সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে নাম না করে বিজেপিকে এই ভাষাতেই কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরের মাটিতে জেলা তথা রাজ্যবাসীর উদ্দেশে গুচ্ছ প্রকল্পের পরিষেবা  তুলে দেন। জেলার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর লাইন আমি করে গিয়েছিলাম। আর ওরা ফিতে কেটেছে। নাথিং এলস। এটা মাথায় রাখবেন, আমি এই প্রকল্প করেছিলাম। তার কারণ এই জায়গায় কোনও রেললাইন ছিল না। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, কামারপুকুর-জয়রামবাটি উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেখানকার উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি টাকা দেওয়া হয়।উল্লেখ্য, রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপ্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তারপর ধাপে ধাপে তারকেশ্বর থেকে আরামবাগ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়। পরে আরামবাগ থেকে গোঘাট পর্যন্ত রেল পরিষেবা বর্ধিত হয়। সম্প্রতি বাঁকুড়ার জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর পর্যন্ত রেল চলাচল শুরু হয়েছে। তার উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের সভা থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে ট্রেন চলাচলের সূচনা করেন। সেই সিঙ্গুরে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী রেল প্রকল্প নিয়ে বিজেপিকে পাল্টা কটাক্ষ করলেন।আরামবাগ থেকে খানাকুল পর্যন্ত নতুন রেললাইন তৈরির অনুমোদন মিলেছে বলে বুধবার জানিয়েছেন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। তার সঙ্গে পুরশুড়ায় জঙ্গলপাড়া রসুলপুরে হল্ট স্টেশনের বরাদ্দও দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ বলে দাবি বিধায়কের। বিমানবাবু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছিল বলেই তিনি তা ঘোষণা করেছিলেন। এখনও কেন্দ্রে বিজেপির সরকার রয়েছে। ফলে আমাদের সরকারই রেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন করেছে। তৃণমূলের জন্যই প্রকল্পের কাজে অনেক দেরি হয়েছে। আমরা তার সমাধান করেছি। এছাড়াও, রেলমন্ত্রীর কাছে বারবার দরবার করায় নতুন রেললাইন ও হল্ট স্টেশনের অনুমোদন মিলেছে। শীঘ্রই সমীক্ষার কাজ শুরু হবে। নতুন রেললাইনের জন্য ৮১ লক্ষ ও হল্ট স্টেশনের জন্য ২ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।উল্লেখ্য, রেল মানচিত্রে তারকেশ্বরের সঙ্গে মন্দিরতীর্থ বিষ্ণুপুরের সংযোগ হলে বিভিন্ন জেলা উপকৃত হবে। এই শাখা প্রায় ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ। বিষ্ণুপুর থেকে হাওড়ার দূরত্বও কমবে। কিন্তু, এই প্রকল্পের কাজ প্রায় দেড় দশক ধরে গতি হারায়। ভাবাদিঘিতে জমিজটের জেরে কাজ থমকে যায়। তবে, সম্প্রতি আদালত কাজ শুরুর নির্দেশ দেয়। সেইমতো ভাবাদিঘি অংশে সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকার আগেও সহায়তা করেছে। এখনও করছে। মাঝে কয়েক বছর একশ্রেণির অধিকারিকদের অপদার্থতার জন্য ভাবাদিঘি সহ বিভিন্ন জেলার মানুষের ক্ষতি হল।
  • Link to this news (বর্তমান)