• রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটারকে নোটিস
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদে রঘুনাথগঞ্জের একটি গ্রামের ১২০০ ভোটারের মধ্যে ৯০০ জন মুসলিম। তাঁদের মধ্যে ৭০০জনকেই শুনানিতে ডাকা হয়েছে। ওই গ্রামের বাকি ৩০০ ভোটারের মধ্যে মাত্র চারজনকে শুনানিতে হাজির হতে নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের এমন দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই বিধানসভায় ১ লক্ষ ২০ হাজার জনকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিন থেকে অভিযোগ করে আসছেন, ন্যায্য ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি। এদিনও তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। হিন্দুদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। রঘুনাথগঞ্জের লক্ষাধিক মানুষকে ফের শুনানিতে ডাকার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষও।গত বিধানসভা নির্বাচনে রঘুনাথগঞ্জের ১ লক্ষ ২৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী আখরুজ্জামান। বিজেপি মাত্র ২৮ হাজার ৫২১ ভোট পেয়েছিল। আখরুজ্জামানকে নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিধানসভায় বিজেপির থেকে বাম ও কংগ্রেসের শক্তি কিছুটা হলেও বেশি। গত বিধানসভায় বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী ৭৩ হাজারের বেশি ভোট পায়। তবে, এবার কমিশন একধাক্কায় লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কারণ দেখিয়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষকে শুনানিতে ডাকছে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার যাতে এবছর ভোট দিতে না পারে, নানা কারণ দেখিয়ে কমিশন সেই চেষ্টাই করছে বলে অভিযোগ তুলছেন শাসক নেতারা।স্থানীয় বাসিন্দা তথা চাষি ইমতিয়াজ শেখ বলেন, সামান্য সমস্যায় বাড়িতে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। আমার পরিবারের তিনজনের নামে নোটিস এসেছে। দিনমজুরি করে খাই। একদিন কাজ বন্ধ করে শুনানিতে গেলে আমাদের খুব ক্ষতি হয়। ৩০ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি, তারপরেও কমিশন আমাদের সন্দেহ করছে।যদিও মানুষের হয়রানিতে কোনও সমস্যা দেখছে না গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, কমিশন একদম ঠিক কাজ করছে। দিনের পর দিন, ভুয়ো ভোটাররা তৃণমূলের ভোট ব্যাংককে মজবুত করেছে। এখন কমিশন শুধুমাত্র আসল ও বৈধ ভোটারদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সাহায্য করছে। সে জন্যই এই এসআইআর প্রক্রিয়া।মন্ত্রী আখরুজ্জামান বলেন, আমার বিধানসভায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটারকে নতুন করে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস দিয়েছে। এর আগে খসড়া তালিকায় ৩০০০ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, এখন কমিশন মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। আমার এখানে একটি গ্রামে ১২০০ ভোটার আছে। যার মধ্যে  ৯০০জন মুসলিম। তাঁদের ৭০০ জনকে ডেকেছে। অথচ ৩০০জন হিন্দুর চারজনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এটা এক ধরনের বৈষম্য।
  • Link to this news (বর্তমান)