• গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের, বিজেপির গড় শালতোড়ায় এক মাস বন্ধ মণ্ডল অফিস
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া: গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে বিজেপির গড় শালতোড়ায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে মণ্ডল কার্যালয়। ওই এলাকায় বিজেপি নেতা ও তাঁদের অনুগামীরা কার্যত আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছেন। বিক্ষুব্ধরা দলের মণ্ডল সভাপতির গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পার্টি অফিসকে ‘মৌরসি পাট্টা’ বানানোর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। তার ফলে দলের মণ্ডল কার্যালয়ে তালা পড়েছে। যদিও মণ্ডল সভাপতি বিক্ষুব্ধদের অভিযোগকে পাত্তা দেননি। তবে, মণ্ডল সভাপতির অনুগামীরা দলীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে কুস্থলিয়া এলাকার একটি ভাড়া করা লজের ঘরে দলের কাজকর্ম সারছেন।বিক্ষুব্ধ অংশের বিজেপি নেতা মধুসূদন ভাণ্ডারী বলেন, আমরা শালতোড়া-৪ মণ্ডলে দলের কাজ করি। বেশ কিছুদিন ধরে মণ্ডল কার্যালয়ে দলের অফিসিয়াল গোষ্ঠীর লোকজন স্বেচ্ছাচার করছেন। তাঁরা খেয়াল খুশিমতো কার্যালয় খুলছেন। আমাদের পাত্তা দেওয়া হচ্ছিল না। সেই কারণে পার্টি অফিসে তালা পড়েছে। আমরা বর্তমানে মাঠে-ময়দানে দলের কাজ করছি।মণ্ডল সভাপতি অজয় মাজি বলেন, আমাদের এলাকায় কোনও গোষ্ঠীকোন্দল নেই। সকলকে নিয়েই আমি দল চালিয়ে থাকি। পার্টি অফিসটি অনেক পুরানো হয়ে গিয়েছে। ফলে, নতুন ভবনে কার্যালয় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন ভবনে এখনও রং করা, দরজা-জানালা বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। আপাতত একটি লজে দলের কাজকর্ম চলছে। কিন্তু, নতুন ভবনে কার্যালয় স্থানান্তরের আগেই কেন পুরানো অফিস বন্ধ করে দেওয়া হল? এই প্রশ্নের উত্তরে অজয়বাবু বলেন, পুরানো পার্টি অফিস এখনও মাঝেমধ্যে খোলা হয়। একেবারে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়নি।বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র লাগোয়া ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে আমডাঙা এলাকায় শালতোড়া-৪ মণ্ডল কার্যালয়টি রয়েছে। আগে সেটি গঙ্গাজলঘাটি উত্তর মণ্ডল কার্যালয় হিসাবে পরিচিত ছিল। পরে বিজেপির ওই সাংগঠনিক মণ্ডলের নাম পরিবর্তন করা হয়। নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দলের অন্দরেও কলহ মাথাচাড়া দেয়। গত বিধানসভা নির্বাচনে শালতোড়ায় বিজেপি জয়লাভ করে। ওই এলাকায় গেরুয়া শিবিরের ভাল সংগঠন ছিল। তবে, গত পাঁচ বছরে গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে একাধিক মণ্ডলে বিজেপির সংগঠনে ধস নেমেছে। শালতোড়া-৪ মণ্ডলের পরিস্থিতি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আসন্ন বিধানসভায় বিজেপিকে ফল ভুগতে হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বিজেপির এক পুরানো দিনের নেতা বলেন, আমরা তিলতিল করে সংগঠনের ভিত মজবুত করেছিলাম। বেনো জল ঢুকে সেই সংগঠন শেষ করে দিয়েছে। ভোট এলেই সংগঠনের ভঙ্গুর অবস্থার পরিণাম দেখতে পাওয়া যাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)