বাংলার বাড়ি: কাটমানি চাইলেই ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জেলাশাসকের
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কেউ যেন উপভোক্তাদের কাছ থেকে একটা টাকাও না নেয় বাংলার বাড়ির দ্বিতীয় পর্বে টাকা ঢোকা শুরু হতেই কাটমানি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া। বহরমপুরে কালেক্টরেট ক্লাবের মঞ্চে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, বিধায়ক, পুরসভার চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের সামনে সকলকে সাবধান করেন তিনি। জেলাশাসকের এই হুঁশিয়ারিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে উপভোক্তাদের।বুধবার থেকেই জেলার ১ লক্ষ ২৩ হাজার মানুষকে বাংলার বাড়ির ৬০ হাজার করে টাকা দেওয়া শুরু হল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরের জনসভা থেকে ঘোষণার পরেই মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন এক এক করে উপভোক্তাদের হাতে চেক তুলে দেয়। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ভাঙনে ভিটেহারা মানুষদের জমির পাট্টাও দিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের মধ্যে সবথেকে বেশি দু’ হাজার পাট্টা দেওয়া হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।জেলাশাসক এদিন বলেন, প্রথম পর্বে আমাদের জেলায় ৭৭ হাজার বাড়ি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দ্বিতীয় পর্বে এই জেলায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার বাংলার বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। আজই ৬০ হাজার করে টাকা পাবেন উপভোক্তারা। কেউ যেন কোনও উপভোক্তার কাছ থেকে একটা টাকা না নেয়। আমাদের ভিজিল্যান্স বাড়াতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের মাথার উপরে ছাদ তৈরি করে দেওয়ার জন্য।জেলাশাসক আরও বলেন, গোটা রাজ্যে ৪ হাজার পাট্টা দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সর্বাধিক দু’ হাজার পাট্টা দিলাম আমরা। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের অতিরিক্ত জেলাশাসক ও তাঁর টিম খব ভালো কাজ করেছে। কয়েক মাসের মধ্যে আবেদন ভেরিফাই করে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেওয়া হল।অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি রাজস্ব) পি প্রমথ বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার বেশ কয়েকটি ব্লক ভাঙন কবলিত। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর আমরা জমি হারাদের জমি দেওয়ার জন্য কাজ শুরু করি। এদিন দুই হাজার পাট্টা বিলি হল। প্রতিটি ব্লক অফিস থেকেও সাধারণ মানুষ পাট্টা নিতে পারবেন।জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানব দরদী। সব দিক থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। এদিন বাংলার বাড়ি উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষকে বিনামূল্যে জমি দান করলেন তিনি। কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা বলেন, মুর্শিদাবাদে বহু মানুষকে বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। যারা ঘর পাওয়ার যোগ্য তাদের বাছাই করে টাকা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।