ঘর থেকে ৪ জনের দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য,স্ত্রী ও দুই মেয়েকে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, লালবাগ: বুধবার সকালে ভগবানগোলা থানার কুঠিবাড়ি এলাকায় একটি মার্কেট কমপ্লেক্সের দোতলার ঘর থেকে একই পরিবারের চারজন সদস্যের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম মানিক ব্যাপারী (৪৫), দোলা ব্যাপারী (৩৮), তানহা ব্যাপারি (১৪) এবং মায়েসা ব্যাপারী (৬)। মা ও দুই মেয়ের রক্তমাখা দেহ ঘরের মেঝেতে কম্বল ঢাকা দেওয়া অবস্থায় পড়ে ছিল। পাশেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছিল মানিকের দেহ। একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক থেকে স্থানীয়রা। ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই ব্যক্তি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করে পরে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান।’স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দশেক আগে মানিক ব্যাপারী নদীয়ার কল্যাণী থেকে স্ত্রী ও বড় মেয়েকে নিয়ে ভগবানগোলায় আসেন। কালুখালি এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকার পাশাপাশি রামবাগে ফলের ব্যবসা শুরু করেন। কালুখালিতেই ছোট মেয়ের জন্ম হয়। বছর চারেক আগে স্বপনগড় মোড়ে একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ফলের ব্যবসা শুরু করেন। বছর দেড়েক আগে পরিবার নিয়ে ভগবানগোলা থানা সংলগ্ন আলতা বটতলা এলাকার ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। সেখানে মাস ছয়েক থাকার পর কুঠিবাড়ি এলাকায় একটি মার্কেট কমপ্লেক্সের দোতলায় ঘর ভাড়া নিয়ে পরিবার নিয়ে থাকছিলেন। গত দু’দিন ধরে পাশের ভাড়াটিয়ারা ব্যাপারী পরিবারের কোনও সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না। তা ছাড়া ঘরটি ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। তাতেই সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা বাড়ির মালিককে খবর দেন। বাড়ির মালিক এসে ডাকাডাকি করে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে ভগবানগোলা থানায় খবর দেন। ভগবানগোলা থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।বাড়ির মালিক হাজি হায়দার আলি বলেন, ‘দোতলায় বেশ কয়েকটি পরিবার ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে। ব্যাপারী পরিবার প্রায় বছর খানেক আগে ভাড়া এসেছিল। স্বামী-স্ত্রীর ব্যবহারে কোনওদিন কোনওপ্রকার অসঙ্গতি লক্ষ্য করিনি। খবর পেয়েই ছুটে এসেছি। পুলিশ তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করুক।’ স্বপনগড় মোড়ে মানিক ব্যাপারীর দোকানের সামনে রাস্তার ওপারে মিষ্টির দোকানের মালকিন পুজা সাহা বলেন, ‘মানিকদা এখানে চার বছর ধরে ফলের ব্যবসা করছিলেন। কোনওদিন কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেননি। সবসময় হাসিখুশি থাকতেন। খবরটা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি।’ পাশের ফল ব্যবসায়ী সফিকুল শেখ বলেন, ‘শনিবারের পর থেকে আর দোকান খোলেননি। মাঝে মধ্যেই নদীয়ার বাড়িতে যেতেন। সেই কারণে ভেবেছিলাম ওখানেই গিয়েছেন। সকাল ১২টা মর্মান্তিক খবরটা পাই।’ ভগবানগোলার একটি বেসরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল তানহা। খবর শুনে কুঠিবাড়িতে ছুটে আসেন স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক গোলাম মোস্তাফা। তিনি বলেন, ‘তানহা মেধাবী ছাত্রী ছিল। স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রিহার্সাল চলছিল। তখন খবরটা পাই। শুনে খুব মর্মাহত হয়ে পড়েছি।’