• সিঙ্গুর থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সূচনা,মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ঘাটালবাসী
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ঘাটাল: বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হুগলির সিঙ্গুর থেকে এই মেগা প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল শহরের কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন কৃষ্ণনগরে নির্মীয়মাণ পাম্প হাউসের পাশে জায়ান্ট স্ক্রিনে সেই উদ্বোধন অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করলেন ঘাটালবাসী। মমতা মাস্টার প্ল্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার সঙ্গে সঙ্গে করতালি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যেই এই মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এদিনের অনুষ্ঠানে সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচ ও জলপথ মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া এবং ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব) সহ অনেকেই। এদিকে ঘাটালের অনুষ্ঠানে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা, পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালী, ঘাটালের মহকুমা শাসক সুপ্রভাত চট্টোপাধ্যায়, সেচদপ্তরের পদস্থ আধিকারিক, জেলা সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি সহ জনপ্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন।উল্লেখ্য, সাংসদ দেব ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময়েই মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে ঘাটালবাসীকে মাস্টার প্ল্যান উপহার দেবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে রাজ্য থেকে ১২৩৮.৯৮ কোটি টাকার প্রজেক্ট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার এখনও সেই প্রকল্প অনুমোদন করেনি। অগত্যা রাজ্য সরকার ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৩৪১ কোটি (৩৪১.৩৯) টাকা দিয়ে এই মাস্টার প্ল্যানের অঙ্গ হিসেবে ১১৫ কিলোমিটার নদী ও খাল সংস্কার করেছে। পরবর্তীকালে রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হয়।এদিন সেচদপ্তরের আধিকারিকরা জানান, এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হলে দুই মেদিনীপুরের প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবেন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৮০১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই প্রকল্প হবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, দাসপুর-১ ও দাসপুর-২, চন্দ্রকোণা-১ ও চন্দ্রকোণা-২, কেশপুর এবং ডেবরা  এই ৭টি ব্লক এই প্রকল্পের আওতায় আসছে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া-১, কোলাঘাট, ময়না ও তমলুক ব্লকের মানুষও এর সুবিধা পাবেন। এর বাইরেও ঘাটাল, খড়ার এবং পাঁশকুড়া পুরসভা এলাকা এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের জন্য মোট ১৫০০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা করেছে। মূলত নদীবাঁধ সংস্কার, পাম্প হাউস তৈরি এবং নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণই এই প্রকল্পের মূল স্তম্ভ।প্রকল্পের বিশদ বিবরণে জানানো হয়েছে, বন্যার জল আটকাতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী বাঁধের দৃঢ়করণ ও উচ্চতা বৃদ্ধি করা হবে। একইসঙ্গে ৫০০ কিলোমিটার খাল ও নদীর নাব্যতা বাড়ানো হবে। জমা জল দ্রুত বের করে দেওয়ার জন্য ২০০ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন দু’টি শক্তিশালী পাম্প হাউস তৈরি করা হচ্ছে। জল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে ৩১টি স্লুইস গেট এবং তিনটি রেগুলেটর বসানো হবে। এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থার মানোন্নয়নে একটি সেতুর সম্প্রসারণের পাশাপাশি ১০৪টি নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে এই প্রকল্পের অধীনে।রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতি বছর বর্ষায় ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়। সাধারণ মানুষের এই চিরকালীন দুর্ভোগ মেটাতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ছিল দীর্ঘদিনের দাবি। বুধবার সিঙ্গুর থেকে এই প্রকল্পের সূচনার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মেদিনীপুরবাসীর সেই আবেগ ও প্রয়োজনকেই মান্যতা দিলেন। সেচদপ্তরের আধিকারিকদের আশা, নদী ও খালের নাব্যতা বাড়লে এবং নতুন স্লুইস গেটগুলি কাজ শুরু করলে বর্ষায় চাষের জমি বা লোকালয়ে আর জল ঢুকবে না। ফলে প্রতি বছর বন্যার ফলে যে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)