সংবাদদাতা, বোলপুর: রবীন্দ্র ভবন মিউজিয়াম ও হেরিটেজ ওয়াক পরিদর্শনে প্রবেশমূল্য ছাড় সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিশ্বভারতীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, সামরিক প্রধান, বিদেশি রাষ্ট্রদূত সহ মোট ১০৬ জন উচ্চ পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলি পরিদর্শন করলে কোনও প্রবেশ মূল্য লাগবে না। যদিও সুদীর্ঘকাল ধরে বিশ্বভারতীতে এইসব পদমর্যাদার লোকজন এসেছেন। তখন কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তাঁরা স্বাভাবিক নিয়মেই নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুযায়ী এই ঐতিহ্যবাহী রবীন্দ্রভবনও আশ্রম প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন। তাই নতুন করে রেজিস্ট্রার কতৃর্ক এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।বিশ্বভারতীর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে এভাবে নির্দিষ্ট পদাধিকারীদের নাম উল্লেখ করে প্রবেশ মূল্য ছাড়ের তালিকা প্রকাশ করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তনী ও প্রবীণ আশ্রমিকরা। প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, ‘এই পদমর্যাদার মানুষরা সর্বত্রই বিশেষ ছাড় পান। নতুন করে তাঁদের নাম করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হাস্যকর এবং একেবারেই শোভনীয় নয়।’বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে, উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে পূর্ববর্তী সমস্ত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন করে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে হেরিটেজ ওয়াক শুরু না হওয়ায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। কয়েক মাস আগে হেরিটেজ ওয়াক চালু হওয়ার পর পরিদর্শন সংক্রান্ত নিয়মাবলি স্পষ্ট করতেই এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য সবুজকলি সেন বলেন,‘যদিও বিজ্ঞপ্তিটি আমি এখনও দেখিনি। তবে আগেও এমন পদমর্যাদার মানুষদের প্রবেশের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতো। সেই সময় কোনও বিজ্ঞপ্তি ছিল না। তাঁদের পদমর্যাদার জন্যই সব জায়গাতেই প্রবেশে ছাড় পেতেন।’বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সংগঠন যদি বিশেষ প্রবেশাধিকারের আবেদন করতে চায়, তবে নির্ধারিত কর্মসূচির অন্তত দুই সপ্তাহ আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ আধিকারিকের দপ্তরে আবেদন জমা দিতে হবে। অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনও আধিকারিক বা কর্মী বিশেষ প্রবেশাধিকার দিতে পারবেন না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, ‘এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি বিভাজনের ইঙ্গিত দেয়। বিশ্বভারতী অবশ্যই একটি বিশেষ হেরিটেজ এলাকা। কিন্তু বিশেষ পদমর্যাদার মানুষদের জন্য আলাদা করে নিয়ম দেখানো কোনো মানে হয় না। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ফোনে তাঁকে পাওয়া যায়নি।