নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাত সাড়ে ন’টার বাইপাস। তখনও পুরোদমে জমজমাট। এহেন ব্যস্ত বাইপাসের উপর এবার দুষ্কৃতীরাজ! বন্ধুর জন্য অপেক্ষারত যুবককে মারধর করে সোনার হার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। গত ২৫ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটেছে বাইপাসের উপর সিংহবাড়ি এলাকায়। ভরা বাইপাসে এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শেখ সাহিল নামে ওই যুবক সার্ভে পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।লিখিত অভিযোগে সাহিল জানিয়েছেন, ২৫ তারিখ অফিস ছুটির পর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সিংহবাড়ি এলাকায় পৌঁছন তিনি। সেখানে তাঁর এক বন্ধুর দেখা করতে আসার কথা ছিল। বন্ধু দেরি হচ্ছে দেখে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এমন সময় বাইকে করে দু’-তিনজন যুবক আসে। যাদের তিনি চিনতেন না। হঠাৎই তাঁর কাছাকাছি এসে জানতে চায়, এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কেন? সাহিল বলার চেষ্টা করেন, তিনি একজনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্তরা তাঁর উপর চড়াও হয়। এরপর তাদের সঙ্গে থাকা লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। এমনকি, ভারি বস্তু দিয়ে আঘাতও করা হয়। মারের চোটে রাস্তায় পড়ে যান সাহিল। সেই সুযোগে তাঁর সোনার হার ছিনতাই করে পালায় ওই দুষ্কৃতীরা। সাহিল চিৎকার করলেও কোনো লাভ হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা করান। এরপর সার্ভে পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ইতিমধ্যে অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এর পিছনে পুরানো কোনো শত্রুতা থাকতে পারে। ওই যুবকের পরিচিত কেউ ভাড়াটে দুষ্কৃতী পাঠিয়ে মারধর করেছে। কিন্তু কী কারণে শত্রুতা, তা স্পষ্ট নয়। তবে রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বাইপাসের উপর এই ঘটনায় মাথাব্যথা বেড়েছে পুলিশের। আরও একটি বিষয় ভাবাচ্ছে তাদের। তা হল, ওই এলাকা যথেষ্ট জমজমাট। অভিযোগকারী চিৎকার করলে লোক জড়ো হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগকারী পুলিশকে জানিয়েছেন। আবার ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করার কথা তিনি বললেও প্রাথমিকভাবে সেরকম কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি। সেই কারণে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিংহবাড়ি মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালের ক্যামেরা সহ একটি বহুজাতিক মলের সামনে থাকা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেগুলি বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, রাত বাড়লে বাইপাসের উপর মাঝেমধ্যেই দুষ্কৃতীরা হানা দিচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ জানানোর সাহস পাচ্ছে না। যদিও পুলিশের দাবি, বাইপাসে কোনো লুটপাটের ঘটনা নিয়ে অভিযোগ পুলিশের কাছে সম্প্রতি আসেনি।