গার্ডেনরিচে রক্ষণাবেক্ষণ, শনিবার জল বন্ধ দক্ষিণ শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশে
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ৩১ জানুয়ারি, শনিবার সকালের পর থেকে গার্ডেনরিচ জলপ্রকল্পের আওতাভুক্ত বিভিন্ন বুস্টার পাম্পিং স্টেশন থেকে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনীয় মেরামতির জন্য সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। পরের দিন অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ফের পানীয় জল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।এর ফলে শহরের দক্ষিণ তল্লাটের একটা বড় অংশ, বাইপাস সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব ও সংযুক্ত কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি, মহেশতলা, বজবজ পুরসভা এলাকার বিভিন্ন অংশেও এই সময় জল সরবরাহ বিঘ্নিত হবে। কারণ, এসব এলাকায়ও গার্ডেনরিচ জলপ্রকল্প থেকে জল সরবরাহ হয়। প্রয়োজনে চাহিদা অনুযায়ী জলের গাড়ি পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। আজ, বৃহস্পতিবার পুরসভা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করবে বলে জানা গিয়েছে।পুরসভার পানীয় জল সরবরাহ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গার্ডেনরিচ জলপ্রকল্প এবং তার আওতায় থাকা বিভিন্ন বুস্টার পাম্পিং স্টেশনে নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু কাজ করতে হয়। সেই কাজগুলি হবে। পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় পাইপলাইনে ফাটল ও ছিদ্র ধরা পড়েছে। এর জন্য জলের অপচয় হচ্ছে। এই সুযোগে সেগুলির মেরামতিও সেরে ফেলতে চাইছে পুরসভা। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯.৩০টা পর্যন্ত জল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। তারপর বন্ধ হয়ে যাবে পরিষেবা। ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার সকাল থেকে স্বাভাবিক হবে পরিষেবা।পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীঘাট, রানিকুঠি, গরফা, চেতলা, গল্ফগ্রিন, লায়েলকা, বেহালা, সিরিটি, দাসপাড়া, বাঁশদ্রোণী, গান্ধী ময়দান, সেনপল্লি, প্রফুল্ল পার্ক, পর্ণশ্রী, মেটিয়াবুরুজ ও শকুন্তলা পার্ক বুস্টার পাম্পিং স্টেশন ও গার্ডেনরিচ জলপ্রকল্পের আওতাভুক্ত বিভিন্ন ক্যাপসুল (ছোট) বুস্টার পাম্পিং স্টেশন থেকে পানীয় জল সরবরাহ হবে না। এর ফলে দক্ষিণ কলকাতার গার্ডেনরিচ, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কসবা, বেহালা, ঠাকুরপুকুর, জোকা মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার মোট ৯টি বরোর (৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬) কোথাও সর্বত্র, কোথাও আংশিক অঞ্চলের বাসিন্দা শনিবার সকালের পর জল পাবেন না। প্রসঙ্গত, প্রতি বছর গরম পড়ার আগে পুরসভা জল উৎপাদন প্রকল্প ও পানীয় জল সরবরাহের পাইপলাইনের জরুরি কাজগুলি সেরে নেওয়ার চেষ্টা করে। কারণ, গরম পড়লে এক ধাক্কায় জলের চাহিদা অনেকটা বেড়ে যায়। তাছাড়া, ওই সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য জল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখলে আম জনতার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।