এটিএম কার্ড বদলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চক্র ফাঁস, ধৃত দুই যুবক
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এটিএমে কাউন্টারে সাহায্য করার নামে কার্ড বদলে টাকা হাতানোর আন্তঃরাজ্য চক্রের হদিশ পেল পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই যুবককে তিলজলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়াটগঞ্জ থানা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে হাতিয়ে নেওয়া ১৪টি এটিএম কার্ড। এগুলি ব্যবহার করে বিপুল টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ। চক্রের মূল পান্ডার খোঁজ করছে থানা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগস্ট মাসে ওয়াটগঞ্জ থানা এলাকার একটি এটিএমে টাকা তুলতে যান এক বৃদ্ধ। টাকা তুলতে তাঁর সমস্যা হচ্ছিল। তা দেখে এগিয়ে আসে অভিযুক্তরা। বৃদ্ধকে ২০ হাজার টাকা তুলে দেয়। এই সুযোগে কার্ড বদলে নেয় দুষ্কৃতীরা। কয়েকদিন পর তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে এক লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা উঠে যায়। ওয়াটগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে ওই এটিএমের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেটি বিশ্লেষণ করে চারজনকে চিহ্নিত করে পুলিশ। ফুটেজে ধরা পড়ে এটিএমের লাগোয়া একটি গাড়ি দাঁড় করানো রয়েছে। ঘটনার পর তাতে উঠছে অভিযুক্তরা। গাড়ির নম্বরের সূত্র ধরে মালিককে চিহ্নিত করে ডেকে পাঠানো হয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, গাড়িটি চালাচ্ছিল সাবির খান। তার সঙ্গে ছিল সলমান খান। দুজনের বাড়ি তিলজলা এলাকায়। কিন্তু ঘটনার পর থেকেই তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। বারবার মোবাইল বদল করছিল। কয়েকদিন আগে পুলিশের কাছে খবর আসে অভিযুক্তরা বাড়িতে এসেছে। সেইমতো ২৪ জানুয়ারি রাতে বাড়িতে হানা দিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। দুই অভিযুক্তকে নিজেদের হেপাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১৪টি এটিএম কার্ড।ধৃতরা জানায়, এগুলি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হাতানো হয়েছিল। সাবির জেরায় পুলিশকে জানিয়েছে, সে চক্রের পান্ডাকে নিয়ে বিভিন্ন এটিএমে হাজির হতো গাড়ি নিয়ে। মূলত বয়স্কদের টার্গেট করত। সাহায্যের নামে এটিএমে ঢুকে কার্ড হাতাত চক্রের কিং পিন। তারপর তাদের দিয়ে টাকা তোলানো হত। জাল ছড়িয়ে রয়েছে বিহারেও। হেপাজত শেষে বুধবার তাদের আবার আলিপুর আদালতে হাজির করানো হয়। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী মহম্মদ ফুরকান আনসারি বলেন, কিং পিন সব কাজ করেছে। তার মক্কেল একজন ড্রাইভার। ঘটনায় যোগ নেই দুজনের। সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, এদের নেটওয়ার্ক অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। তদন্তে ভিন রাজ্যে যেতে হবে। সওয়াল শেষে দুজনকেই আবার পুলিশি হেপাজতে পাঠায় আদালত।