অভিজিৎ চৌধুরী, সিঙ্গুর: বিপুল প্রত্যাশার পরিবেশ তৈরি করেছিল দশদিন আগের একটি সভা। কিন্তু সিঙ্গুর এবং শিল্প নিয়ে সেদিন হতাশ হতে হয়েছিল বঙ্গবাসী তো বটেই বিজেপি কর্মীদেরও। অক্সিজেন দূর অস্ত বাড়তি অস্বস্তি দিয়েছিল মোদির সভা। ঠিক দশদিন পরে উলটপুরাণ। সিঙ্গুরের মাটিকে সম্মান, নতুন শিল্পবার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিলেন বিপুল কর্মসংস্থানের ইঙ্গিত। প্রত্যাশার বুদবুদ নয়, বুধবারের দুপুরের ঠাসাঠাসি ভিড় ঘরে ফিরল স্বপ্নপূরণের নিশ্চয়তা নিয়ে। দশদিনের ব্যবধানে উজ্জীবিত হল বাংলা, তৃণমূল কংগ্রেস। ১৮ থেকে ২৮ জানুয়ারি, একটি চিহ্নিত হয়ে রইল পর্বতের মূষিক প্রসব দিয়ে আর অন্যটি? স্বপ্নপূরণের দিকচিহ্ন হয়ে। সাক্ষী রইল একই জমি, বিপ্লবের ভূমি সিঙ্গুর।বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর সিঙ্গুরের সভাকে প্রতিবাদের সভা হিসেবেই প্রচার করা হয়েছিল। প্রতিবাদ ছিল। কিন্তু বাড়তি ছিল পরিতৃপ্তি। বাংলার, বাঙালির এবং সিঙ্গুরের এমনকি তৃণমূলেরও। দলের শীর্ষনেতার জন্য মুখ পুড়েছিল বিজেপির। মমতার সভা শেষে তাঁর জন্যই গালভরা হাসি নিয়ে ফিরলেন আপামর কর্মীরা। মমতা এদিন সভা শুরুই করেছিলেন সিঙ্গুরের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসকে স্মরণ করে। তিনি বলেন, এই সেই মাটি, যা আমাকে বাংলার মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছিল। ২৬ দিন অনশন করেছি। আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বুক দিয়ে আগলেছিলেন সিঙ্গুরের মানুষ। আমিও বলেছিলাম, প্রাণ যায় যাক, কিন্তু কৃষকদের বাঁচাতে হবে। সেকথা আমি রেখেছি। কৃষকদের জমি ফিরিয়েছি। সেইসঙ্গে শিল্পও হয়েছে। সিঙ্গুরে ৮ একর জমিতে অ্যাগ্রো পার্ক হয়েছে। ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ এসেছে। ৭৭ একর জমি নিয়ে আরও একটি শিল্পপার্ক হচ্ছে। সেখানে একাধিক ই-কমার্স সংস্থা বিনিয়োগ করছে। কর্মসংস্থান হবে। শিল্প ও কৃষি হাত ধরাধরি করে চলবে। আমি ভাঁওতা দিই না, কথা রাখি। বারবার তা প্রমাণ হয়েছে। এই সিঙ্গুরের পুণ্যভূমি, আমার ভালোবাসার মাটিতে আরও শিল্প ও কর্মসংস্থান হবে।সিঙ্গুরের আজবনগরের ইন্দ্রখালি মাঠে তখন জনগর্জনে কানপাতা দায়। মাঠের একেবারে পিছনের দিকে জটলা করে বসেছিলেন তারকেশ্বরের কয়েকজন দলীয় কর্মী। এক প্রবীণ বলছিলেন, এরই নাম মমতা। মানুষের জন্য কাজ করে। তাই শিল্পের কথা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন। এরপরে কর্মীদের জন্য যেমন কিছু বলার প্রয়োজন থাকে না তেমনি বাংলার মানুষের কাছেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়ে গেল।শুধু সিঙ্গুরের কথাই বলেননি মমতা। হুগলির জন্য শপিংমল, কোল্ড স্টোরেজসহ নতুন ৯৪টি প্রকল্পের কথা বলেছেন। কিন্তু শুরু থেকে শেষপর্যন্ত কুর্নিশ করেছেন সিঙ্গুরকে। আর শেষবেলায় বলেছেন, এই মাটিতে দাঁড়িয়ে একজন (মোদি) শুধু আমাকে গালি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করেননি। কিন্তু আমি তা করতে পারি না। কারণ, আমি মা-মাটি-মানুষের জন্য কাজ করতে দায়বদ্ধ। সিঙ্গুরই সেই দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে। নিজস্ব চিত্র