• রামসার সাইট তকমা হারাবে কি পূর্ব কলকাতা জলাভূমি? নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে বাড়ল উদ্বেগ
    বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • সোহম কর,  কলকাতা: পূর্ব কলকাতা জলাভূমি কি রামসার সাইট-এর তকমা হারাতে পারে? এই মুহূর্তে এমনই আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। কারণ, পূর্ব কলকাতা জলাভূমিতে নির্মাণ সংক্রান্ত একাধিক মামলা চলছে। নিয়মিত পরিবেশকর্মীরা সরব হচ্ছেন জলাভূমি রক্ষার প্রশ্নে। এই অবস্থায় নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড তাঁদের তোলা যাবতীয় প্রশ্নকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলল।গত শতাব্দীর পাঁচ থেকে ছয়ের দশকে এই বিস্তীর্ণ জলাভূমির এলাকায় মাছ চাষের অঞ্চলের অনেকটা বুজিয়ে বিধাননগর গড়ে তোলা হয়। বাকি অংশ এখন পূর্ব কলকাতা জলাভূমি হিসেবে চিহ্নিত। সেটিই ২০০২ সালে রামসার সাইট হিসেবে ঘোষিত হয়। নাজিরাবাদের যেখানে গুদামে আগুন লাগে, সেটিও রামসার সাইটের আওতায় পড়ে বলেই দাবি পরিবেশকর্মীদের। ২০০২ সালে ওই ঘোষণার সময় পূর্ব কলকাতা জলাভূমির আয়তন ছিল ১২,৫০০ হেক্টর। পরে তা বেড়ে হয় ১২৭৪১.৩০ হেক্টর। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য রামসার সাইটের তুলনায় পূর্ব কলকাতা জলাভূমির চরিত্র আলাদা। কারণ, এখানে ৩৬৪টি জলাশয়ের পাশাপাশি এখানে ধানজমি, নর্দমার জলে পুষ্ট চাষের জমি, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বাসন্তী হাইওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাও রয়েছে। অন্যান্য জায়গায় সাধারণত বড় বড় একক জলাশয়কেই রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন, এই জলাভূমি দূষিত বায়ুকে শোষণ করে শহরের ফুসফুসের কাজ করে। পাশাপাশি, ময়লা জলকে প্রাকৃতিক উপায়ে শোধন করে শহরের কিডনি হিসেবেও কাজ করে। রামসার সাইট ঘোষণার পর রামসার ব্যুরোর শর্ত অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০০৬ সালে ‘দ্য ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস (কনজারভেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করে। রাজ্য সরকারের পরিবেশ দপ্তরের অধীনে ‘দ্য ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ গঠন হয়। একটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানও তৈরি হয়।পরিবেশ বিজ্ঞানী তপন সাহা বলছিলেন, ‘রামসার সাইট ঘোষণা হলে সেখানে জমির চরিত্র বদলানো যায় না। কিন্তু ছোটো স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র করার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। নাজিরাবাদে অনেক জলাভূমি বুজিয়ে ওয়্যারহাউস হয়েছে। এটা অন্যায়। আমার আশঙ্কা, এই অন্যায় যদি একইভাবে চলতে থাকে, তাহলে রামসার ব্যুরো ব্ল্যাক লিস্টেড করে দেবে এই জলাভূমিকে।’ তবে এক্ষেত্রে ‘ব্ল্যাক লিল্টেড’ করা মানে বাদ দেওয়া নয়। তপনবাবুর ব্যাখ্যা, ‘এক্ষেত্রে জেনিভার রামসার ব্যুরো জলাভূমিকে মন্ট্রিক্স একর্ডের অধীনে নিয়ে নেবে। এর ফলে জলাভূমিকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কয়েক বছর সময় দেওয়া হয়। তা যদি না করা যায়, তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকবে না।’ এই মুহূর্তে ভারতে ৯৬টি রামসার সাইট আছে। বাংলায় দু’টি। সুন্দরবন ও পূর্ব কলকাতা জলাভূমি।
  • Link to this news (বর্তমান)