ডেকরেটার্সের গোডাউনে পরপর বিস্ফোরণেই ভয়াবহ আকার নেয় আগুন, দাবি প্রত্যক্ষদর্শীর
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তখন গভীর রাত। নাজিরাবাদের জোড়া গোডাউনের ঠিক পাশেই খাটালে ঘুমোচ্ছিলাম। আচমকাই ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরোতেই দেখি, ডেকোরেটার্সের গোডাউনের রান্নাঘর থেকে আগুন বেরোচ্ছে। সেটি একেবারে আমার খাটাল ঘেঁষা। লাফ দিয়ে উঠে পড়ি। সঙ্গে সঙ্গে নিজের খাটালে থাকা পাম্প চালিয়ে ৩০০ ফুট লম্বা পাইপ দিয়েই আগুন নেভানোর জন্য জল দিতে শুরু করি। আর ঠিক তখনই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল ওই গোডাউন। পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়। আর তাতেই আগুনের তেজ যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ওই গোডাউনের সামনে ও পিছন দিকের অংশ দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে খাটালের অন্যান্য কর্মীদের খবর দিই।দমকলকে ফোন করা হয়। সোমবার ভোররাতের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী ওই খাটালের মালিক বীরেন্দ্র যাদব। আগুন লাগার ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বারবার আঁতকে উঠছিলেন।আনন্দপুর লাগোয়া নাজিরাবাদে নামী মোমো প্রস্তুতকারী ও ডেকোরেটার্স সংস্থার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার উত্তাপ এখনও রয়েছে। কীভাবে আগুন লাগল, কোন দিকে আগে ছড়িয়েছে, নানা প্রশ্ন উঠছে। রহস্যের উন্মোচন করলেন ওই খাটালের মালিক ও কর্মীরা। কমলেশ যাদব নামে আরেকজন বলেন, খবর পেয়েই বাড়ি থেকে দ্রুত এখানে চলে আসি। এসে দেখি, ডেকোরেটার্স সংস্থার গোটা গোডাউন আগুনে গ্রাসে চলে গিয়েছে। তখনও মোমো কোম্পানির গোডাউনে আগুন ধরেনি। কিন্তু যেভাবে পরপর বিস্ফোরণ শোনা যাচ্ছিল, তাতে আগুন যে বড় আকার নিচ্ছে, বোঝা যাচ্ছিল। তাছাড়া ভোরের দিকে হালকা হাওয়াও দিচ্ছিল। সে কারণে ডেকোরেটার্স সংস্থার গোডাউন থেকে তা পাশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমরা ওই পাইপ দিয়ে জল ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও, কাজ হয়নি। পরে দমকল এলে তারাই নেমে পড়ে আগুন নেভানোর কাজে। এদিকে খাটাল থেকে তখন ১৫ থেকে ২০ টি গবাদি পশুকে কোনোমতে বের করে পাশে খোলা মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। আগুন যদি খাটালের দিকে ছড়িয়ে পড়ত, তাহলে এই অবলাদেরও হয়তো বাঁচানো যেত না।খাটাল কর্মীদের দাবি, এই গোডাউনে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ লোকের যাতায়াত ছিল। রাতে অনেকেই থাকতেন। তাঁরা রান্নাবান্না করতেন। ভিতরে কয়েকটা সিলিন্ডার মজুত থাকত। সোমবার ভোররাতে যখন আগুন লাগে তার কিছুক্ষণ পর যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেটা ওইসব সিলিন্ডার ফেটেই। তবে আগুন লাগার পর কোথাও কোনো চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যায়নি। আমরাও বুঝতে পারিনি, সঠিক কতজন ভিতরে রয়েছেন। সকালে খবর পেলাম অনেকেই নিখোঁজ।