কামারহাটির মোহিনী মিলের জমি দখল করে ঘর তৈরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার তিন
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কামারহাটির ঐতিহ্যশালী মোহিনী জুটমিলের জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ চলছিল বেশ কয়েক দিন ধরে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর ও পুরসভায় স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন এলাকাবাসী। তারপর সক্রিয় হয় পুলিশ ও প্রশাসন। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে বেলঘরিয়া থানা বুধবার তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি পুরসভার তরফে নোটিস দিয়ে বলা হয়েছে, বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে হবে। নইলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রশ্ন, নতুন দোকানঘর তৈরি হয়ে যাওয়া পর্যন্ত কেন অপেক্ষা করল পুরসভা। কেন আগে পদক্ষেপ নেওয়া হল না?দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে কামারহাটি পুরসভা এলাকায় মোহিনী কাপড়ের মিল তৈরি হয়েছিল। এক সময় এই কারখানায় প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। পরে কারখানা ভারত সরকারের টেক্সটাইল কর্পোরেশন অধিগ্রহণ করেছিল। কিন্তু ১৯৮৮ সালের ২১ জুন কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কারখানার প্রায় ২৬ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল। তবে কয়েক বছর ধরে কারখানার জমি ধীরে ধীরে বেদখল হচ্ছিল বলে অভিযোগ। গত ১০ দিন ধরে নতুন করে জমি দখলের কাজ শুরু হয়। সীমানা প্রাচীর ভেঙে ২০টির বেশি দোকান তৈরির কাজ হয়। ইতিমধ্যে অনেক দোকান তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাতে দোকানও শুরু করে দেওয়া হয়েছে। কিছু দোকানে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। কারখানার মধ্যে বড়ো বড়ো গাছ কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ।গত সপ্তাহে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পুরসভায় স্মারকলিপি জমা দেন। ওই স্মারকলিপির কপি মুখ্যমন্ত্রী, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনারকেও পাঠানো হয়। কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন। বুধবার পুলিশ ওই জায়গায় কাজ করা তিন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে। পুরসভার তরফে নোটিস দিয়ে বলা, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই জমি মোহিনী মিলের। এই মিলের জমি দখল করে তৈরি হওয়া সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে।সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা কামারহাটির বাসিন্দা সায়নদীপ মিত্র বলেন, অর্থের বিনিময়ে সরকারি জায়গা শাসক দলের কাউন্সিলার ও নেতারা বিক্রি করেছিল। এখন বিপাকে পড়ে পুরসভা নোটিস দিয়েছে। মানুষ সব কিছু দেখছে। জবাব দেবে। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, মিলের জমি বেদখল হতে দেওয়া যাবে না। অভিযোগ পেয়েই পুরসভার তরফে আধিকারিকদের পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়। বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আঙুল তুলছে। নিজস্ব চিত্র