রাস্তায় জমে থাকা আবর্জনায় আগুন, ধোঁয়ায় নাজেহাল বারাসতের বাসিন্দারা
বর্তমান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দিনের পর দিন বারাসত পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আবর্জনার স্তূপে। কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে ভরে যাচ্ছে চারপাশ। কোথাও কোথাও এই কারণে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়ছে যে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগের একশেষ হতে হচ্ছে পথচলতি মানুষকেও। মূলত দুপুর ও বিকেলের দিকে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি চালাক এবং প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নিক, দাবি আম জনতার।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত শহরের বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন এলাকা, ব্যস্ত রাস্তার ধারে ও জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমে থাকার সমস্যা রয়েছে। সুনীল মুখোপাধ্যায় পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আবর্জনা সমস্যা কিছুটা লাঘব হলেও অনেকাংশেই তা রয়ে গিয়েছে আগের মতো। নিয়মিত আবর্জনা না তোলার অভিযোগ এখনও আসছে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এই অবস্থায় স্থানীয় লোকজন বা ব্যবসায়ীরা নিজেদের সুবিধার জন্য আবর্জনার স্তূপে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। স্তূপ হয়ে থাকা আবর্জনাযর একটা বড় অংশ প্লাস্টিক। ফলে আগুন লাগলে দেদার ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া। ধোঁয়ায় মাথা ধরে যাচ্ছে মানুষের। শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোথাও কোথাও পুরসভার গাড়ি এলেও সব আবর্জনা তোলা হচ্ছে না। ফলে রাস্তার পাশে দিনের পর দিন পড়ে থাকা জঞ্জালে আগুন লাগানোর প্রবণতা বাড়ছে। অনেকে মনে করছেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই বেআইনি কাজ বারবার ঘটছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।বারাসতের হরিতলার বাসিন্দা সুস্মিত মল্লিক বলেন, ‘শহরে আগের তুলনায় আবর্জনা জমে থাকার ঘটনা কমেছে। এখন নতুন যন্ত্রণা হল, না তোলা আবর্জনাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া। প্রশাসনের উচিৎ, কারা এই কাজ করছে, তাদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা।’ পাশাপাশি, নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে আবর্জনা সাফাই না হলে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। চাঁপাডালির বাসিন্দা হীরক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘সন্ধ্যা হলেই ব্যবসায়ীদের একাংশ আবর্জনাতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। টাকি রোডে এটা প্রায় দেখা যাচ্ছে। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।’ এ বিষয়ে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব। নজরদারিও বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি রাতে আবর্জনা সংগ্রহ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের কিছু আলোচনাও হয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র