বাবলু সাঁতরা, ঘাটাল
দু'-এক বছর নয়, দু'-এক দশকও নয়। ঘাটাল নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে সেই ১৯৫২ সাল থেকে। কাট টু। ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬। হুগলির সিঙ্গুরের সভা থেকে 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান'-এর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দেব। 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান' নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলছিল রাজ্য। ওই প্ল্যান নিয়ে গত বছর সাংসদ দেব চিঠি দিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন। সেখানেও আশাহত হন তিনি। ইতিমধ্যে রাজ্য সিদ্ধান্ত নেয়, নিজেদের অর্থেই তৈরি হবে মাস্টার প্ল্যান।
জানা গিয়েছে, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মোট ৮০১ বর্গ কিমি এলাকা নিয়ে তৈরি হবে এই মাস্টার হ্যান। যার জন্য মোট খরচ হবে ১৫০০ কোটি টাকা। ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। কাজও শুরু হয়েছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর শিলান্যাসের পরে ফের আশায় বুক বাঁধছে ঘাটাল-সহ দুই মেদিনীপুরের বহু মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাটালের এক বাসিন্দার কথায়, 'শুনেছিলাম, বৃথা আশা মরতে মরতেও নাকি মরে না। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতাও সেই রকম। শিলান্যাসই বলুন আর উদ্বোধনই বলুন, এ বার কিন্তু প্রথম হলো না। সেই ১৯৮২-তেও শিলান্যাস হয়েছিল। তবে কাজের কাজ কিছু হয়নি। এখন তো তবুও কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি, প্রতি বছর জলবন্দি হওয়ার ভবিতব্য থেকে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের বাঁচাবেন।'
তবে, মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'বিজেপি বাংলার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি হয়ে যাবে। অর্ধেক টাকা বাজ্য দেবে, অর্ধেক কেন্দ্রীয় সরকার।' ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট এ দিন সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, 'কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সম্ভব নয়। তৃণমূল মাস্টার প্ল্যানের নামে ঘাটালের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কবে কাজের শিলান্যাস হলো আর কবেই বা সূচনা হলো, কেউ জানেন না। অথচ, সিঙ্গুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করে দিলেন।' সিপিএমের ঘাটাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক চিন্ময় পালের কটাক্ষ, 'আমরা মাস্টার প্ল্যানকে স্বাগত জানাই। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের আরও কত বার উদ্বোধন করবেন জানি না। এই প্ল্যান গঙ্গা ফ্লাড কন্ট্রোল অনুমোদিত নয়। কোনও ডিপিআরও প্রকাশ করেননি।'
ঘাটাল ব্লক তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ মাজি বিরোধীদের কটাক্ষ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, 'ঘাটালের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সত্যি করছেন। ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। যাঁরা এখন বড় বড় কথা বলছেন, তাঁদের কারও সরকার কয়েক দশক ক্ষমতায় ছিল, কারও সরকার এখনও কেন্দ্রে ক্ষমতায় আছে। তাঁরা এত দিন কী করেছেন?' এ দিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন উপলক্ষে ঘাটাল সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায় জায়ান্ট স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ-প্রশাসনের কর্তা ও তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। ঘাটালের নবকুমার পণ্ডিত, সুপ্রকাশ সামন্তদের কথায়, 'আমরা চাইছি, সত্যি সত্যিই প্রকল্পটি এ বার রূপায়িত হোক। প্রতি বছর জল-যন্ত্রণা আর নেওয়া যাচ্ছে না।'