• অরূপের মতো কেন পদত্যাগ নয় সুজিতের? প্রশ্ন শুভেন্দুর
    এই সময় | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মেসির সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতীতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পরে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের অপদার্থতা সামনে এসেছিল। একই ভাবে আনন্দপুরের ঘটনার পরে দমকল মন্ত্রীর ব্যর্থতা সামনে এসেছে। তাই অরূপকে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হলে সুজিতকেও দমকল মন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে হবে বলে বুধবার দুর্গাপুরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে দাবি তোলেন বিরোধী দলনেতা।

    নাজিরাবাদে রবিবার গভীর রাতে একটি মোমো কারখানা এবং ডেকরেটরের গোডাউনে আগুন ‍লাগে। ঘটনাস্থল থেকে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর বাড়ির দূরত্ব খুব বেশি হলে ১২ কি‍লোমিটার। কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছোন মঙ্গলবার দুপুরে, প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে। যা নিয়ে শুধু বিরোধীরাই প্রশ্ন তোলে‍নি, তৃণমূলের একাংশও সুজিতের ‘দেরিতে পৌঁছনো’কে ভালো ভাবে নিচ্ছেন না। ঘরে–বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সুজিত অবশ্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যাইনি ঠিকই, কিন্তু রাত তিনটের সময়ে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর থেকেই সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলাম। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই। বরং মানুষকে উদ্ধার করাটাই কাজ।’ যদিও অতীতে বহুবার শহরের যে কোনও ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাতেও তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন সুজিত। মঙ্গলবার মন্ত্রী আনন্দপুরে যাওয়ার পরে তাঁকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও তোলেন স্থানীয়দের একাংশ।

    রাজ্যের দমকলমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে মঙ্গলবারই প্রশ্ন তুলেছিল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বুধবার সেই সুর আরও চড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘গত কয়েক বছরে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে অগ্নিনির্বাপণ দপ্তর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা দমকল মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি।’ তাঁর সংযোজন, ‘যুবভারতীর ঘটনার পরে ক্রীড়ামন্ত্রীর মতো আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের পরে দমকলমন্ত্রীরও অপদার্থতা সামনে এসেছে। সুজিত বসুকেও এর দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে।’

    এ দিন, আনন্দপুরের ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তও দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা। বুধবার অবশ্য আগুন নিয়ে সুজিতকে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের ব্যাখ্যা, যে ভাবে বিরোধীরা তাঁর বিরুদ্ধে ঘঁুটি সাজাচ্ছে এবং নিজের দলের একাংশও যে ভাবে দমকল দপ্তরের ভূমিকাকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলেছে, তাতে সুজিতের অস্বস্তি আগামীতে যে আরও বাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

    শুভেন্দু অবশ্য এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, আনন্দপুর ইস্যু বিজেপি এত সহজে ছাড়বে না। সরকার এবং দমকলমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দুর্গাপুরে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিজেপি বিধায়কদের ২০ সদস্যের দল ঘটনাস্থলে যাবে। আনন্দপুর থানার সামনেও আমরা যাব। এরপরেও ব্যবস্থা না হলে প্রয়োজনে সচিবালয়ের সামনে ধর্নায় বসব।’

    তবে শুধু দমকলমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েই নয়, প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাস্থলে একবারও না যাওয়া নিয়েও। যদিও বুধবার সিঙ্গুরের সভা থেকে আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার সময়ে আমাদের কয়েকজন বন্ধু মারা গিয়েছেন। আমি মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। ডেকোরেটর কোম্পানি এবং ‘ওয়াও মোমো’ ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। আমি পুলিশকে বলেছি, মৃতদের পরিবার পিছু একজন সদস্যকে চাকরি দিতে এবং সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করতে।’

    মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘এটা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, এ রাজ্যে সরকার বলে কিছু নেই। থাকলেও চোখ বন্ধ করে আছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরেও তিনি নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু একবারও আনন্দপুরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। পরিবারগুলির খোঁজ নেওয়ারও সময় পাননি।’ কেন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দপুরে যাননি তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘আমাদের মনে হয়েছে, যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বিশেষ ধর্মের কেউ নেই। তাই মুখ্যমন্ত্রী রাজধর্ম বা মানবিক ধর্ম পালনের প্রয়োজন বোধ করেননি।’ শুভেন্দুকে পাল্টা আক্রমণ করে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘বিরোধী দলনেতার কোনটা মুখ আর কোনটা মুখোশ বোঝা যায় না। কিছুদিন আগেই তো উনি বলেছিলেন, আনন্দপুর এলাকা রোহিঙ্গাদের ঘাঁটি! এখন তো উল্টো কথা বলছেন।’

  • Link to this news (এই সময়)