• অভিশপ্ত বিমানে ওঠার আগে ঠাকুমাকে মেসেজ, শেষ বার্তায় কী লিখেছিলেন কো-পাইলট শাম্ভবী?
    এই সময় | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • আসলের থেকে সুদ প্রিয়! সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই কথাটা একেবারেই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। নাতনি শাম্ভবী পাঠক এবং তাঁর ঠাকুমা মীরা পাঠকের সম্পর্ক ‘লং ডিসটেন্স’ হলেও ভালোবাসা বেঁধে রেখেছিল তাঁদের। ‘গুড মর্নিং দাদ্দা’, বুধবার সকালে নাতনির মেসেজ পেয়ে দিনটার শুরুটা ভালোই হয়েছিল প্রবীণ মীরার। তিনিও প্রাণের চিনিকে ‘সুপ্রভাত’ বলেছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টায় পাঠানো সেই মেসেজই যে শাম্ভবীর জন্য তাঁর শেষ মেসেজ হবে, তা চরম দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি এই বৃদ্ধা।

    বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। এই বিমানে অজিত ছাড়া ছিলেন আরও চার জন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম বিমানের কো-পাইলট বা ফার্স্ট অফিসার ক্যাপ্টেন শাম্ভবী পাঠক। ২৫ বছরের শাম্ভবীর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ পরিবার। হাপুস নয়নে কাঁদছেন ঠাকুমা মীরা।

    মীরা গোয়ালিয়রের বসন্ত বিহারে একাই থাকেন। পরিবারের লোকজন দিল্লিতে। কিন্তু গোয়ালিয়রের বাড়িতেই অনেকটা সময় কাটিয়েছেন তাঁর আদরের নাতনি শাম্ভবী (চিনি)। বুধবার দুঃসংবাদ পাওয়ার পরে তিনি বার বার নাতনির পাঠানো মেসেজটি দেখছিলেন। কান্না জড়ানো গলায় তিনি বলেন, ‘কখনও ভাবিনি, এটাই ওর শেষ মেসেজ হবে।’

    তিনি বলেন, ‘আমার বড় ছেলে ফোন করে বিমান দুর্ঘটনার কথা জানায়। গত রাতে (মঙ্গলবার) ওকে আমি জিজ্ঞাসাও করেছিলাম যে চিনি কোথায়? ও (শাম্ভবী) মুম্বইয়ে থাকত। ও ঘন ঘন আমাকে ফোন বা মেসেজ করত, তা নয়। বুধবার(দুর্ঘটনার দিনে) কী ভেবে মেসেজ করেছিল, কে জানে!’

    বুধবার সকাল ৯টায় মীরাকে কাঁদতে কাঁদতে ফোন করেন শাম্ভবীর বাবা বিক্রম পাঠক। তিনি দুর্ঘটনার খবর অবশ্য দেননি। কিন্তু ছেলের কান্না শুনেই এই বৃদ্ধা অঘটনের আভাস পেয়েছিলেন। প্রায় দু’ঘণ্টা পরে তিনি জানতে পারেন, শাম্ভবী আর নেই। মীরা বলেন, ‘ও আমার হৃদয়ের টুকরো। আমরা প্রতিদিন হয়তো কথা বলতাম না। কিন্তু যখন বলতাম, তখন দীর্ঘ সময় ধরে কথা হতো।’

    গোয়ালিয়রের মুরারে জন্ম শাম্ভবীর। তাঁর দাদু শ্রী কৃষাণ পাঠক ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার ছিলেন। তাঁর বাবা বিক্রম পাঠকও ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন। শাম্ভবীর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় গোয়ালিয়রের বিদ্যা ভারতী স্কুলে। এর পরে ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি এয়ার ফোর্স দিল্লি পাবলিক সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এর পরে তিনি অ্যারোনটিক্স, এভিয়েশন, এরোস্পেস সায়েন্স এবং টেকনোলজি নিয়ে মুম্বই ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেন। নিউ জ়িল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়ার পাইলট অ্যাকাডেমি থেকে তিনি কর্মাশিয়াল পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন।

  • Link to this news (এই সময়)