• নতুন ‘ইকুইটি’ বিধিতে স্থগিতাদেশ, সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা UGC-র, নোটিস কেন্দ্রকে
    এই সময় | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন’ বিধির উপরে বৃহস্পতিবার স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। নতুন বিধি সমাজে ‘বৈষম্য’ সৃষ্টি করতে পারে, পর্যবেক্ষণ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার ও ইউজিসি-কে নোটিস পাঠিয়ে আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ততদিন পর্যন্ত ইউজিসি-র ২০১২ সালের রেগুলেশনই কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    ইউজিসির নতুন এই বিধিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ তৈরি করতে হবে। একটি ‘ইকুইটি কমিটি’ থাকবে। এই কমিটির সদস্য হবেন তফশিলি জাতি, উপজাতি, অনগ্রসর শ্রেণি, বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং মহিলারা। এই বিষয়টি নিয়েই প্রবল আপত্তি দেখতে শুরু করেছে অসংরক্ষিত শ্রেণি বা জেনারেল ক্যাটিগরির পড়ুয়ারা।

    নতুন বিধিতে এটাও বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে একটি ‘ইকুইটি হেল্পলাইন’ নম্বর থাকবে। বিধি ভঙ্গ হলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। প্রয়োজনে সেই প্রতিষ্ঠানের বৈধতা বাতিল করে দেওয়া হতে পারে। এই নিয়মের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই বিরোধ শুরু হয়েছে। ইউজিসি-র প্রধান কার্যালয়ের সামনেও প্রতিবাদে সামিল হন এক দল পড়ুয়া।

    মূলত অসংরক্ষিত পড়ুয়াদের দাবি, নতুন এই বিধির মাধ্যমে আদতে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে। নতুন বিধি কার্যকর হলে আদতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট হবে। অসংরক্ষিত পড়ুয়াদের একটা ঘেরাটোপের মধ্যে থাকতে হবে। নতুন নিয়ম চালু হলে যে কোনও পড়ুয়াই মিথ্যা অভিযোগের শিকার হতে পারেন। এর বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনেরও কোনও সুযোগ থাকবে না তাঁর কাছে।

    সম্প্রতি ইউজিসি-র এই নতুন বিধির বিরুদ্ধে তিনটি মামিলা দায়ের হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নামকরা আইনজ্ঞদের দিয়ে এই বিধি নতুন করে পর্যালোচনা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নতুন এই বিধি আদতে ‘অস্পষ্ট’ এবং এর ‘অপব্যবহার’ হতে পারে বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

  • Link to this news (এই সময়)