ডুয়ার্সে শুরু পাহাড়ে শেষ পাহাড়প্রেমীদের জন্য ৩ দিনের বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভাল
আজ তক | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
Bengal Himalayan Carnival: দার্জিলিংয়ের বাইরে উত্তরবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরতেই ফের মঞ্চ প্রস্তুত। গ্রামীণ হোমস্টে ও অফবিট গন্তব্যগুলির সঙ্গে দেশের পর্যটন ব্যবসায়ীদের সরাসরি পরিচয় করাতে ৩০ জানুয়ারি থেকে উত্তরবঙ্গে শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ ‘বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভাল’। তিন দিনের এই পর্যটন উৎসবে পাহাড়–ডুয়ার্সের সংস্কৃতি, অ্যাডভেঞ্চার ও গ্রামীণ জীবনের স্বাদ একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ মিলবে।
কোথায়, কবে কার্নিভাল
কার্নিভালের সূচনা হবে ৩০ জানুয়ারি মূর্তি–চালসা এলাকায়। ৩১ জানুয়ারি আয়োজন হবে কালিম্পংয়ের লোলেগাঁও-কাফেরগাঁও অঞ্চলে। আর ১ ফেব্রুয়ারি কার্নিভালের সমাপ্তি হবে হোমস্টে পর্যটনের জনপ্রিয় কেন্দ্র সিটং-এ।
পর্যটকদের জন্য কী কী থাকছে
এই কার্নিভালে পর্যটকদের সহায়তায় থাকবেন ৩২০ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত ট্যুরিস্ট গাইড। অংশ নিচ্ছেন অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (ATOAI)-এর সদস্যরাও। রাজ্য পর্যটন দপ্তর, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA) এবং হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক-এর পাশাপাশি নেপালের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত থাকবে।
পাহাড়-ডুয়ার্সের সংস্কৃতির ছোঁয়া
হোমস্টে পর্যটনে সিটং ইতিমধ্যেই পরিচিত নাম হলেও পাহাড়ের গ্রামীণ সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও ঐতিহ্য একসঙ্গে উপভোগ করার সুযোগ সব জায়গায় মেলে না। কার্নিভালের মাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতাই পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
অ্যাডভেঞ্চার ও প্রকৃতির মেলবন্ধন
ডুয়ার্সে আয়োজন করা হচ্ছে ম্যারাথন ও সাইক্লাথন। কালিম্পংয়ের লোলেগাঁও-কাফেরগাঁও এলাকায় থাকছে অফবিট হাইকিং। আর সিটংয়ে পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বার্ড ওয়াচিং, রক ক্লাইম্বিং ও ক্যাম্পিং।
সিটং নিয়ে কী বলছেন স্থানীয়রা
ইউনাইটেড সিটং হোমস্টে ওয়েলফেয়ার সোসাইটি-র সভাপতি বিক্রম রাই জানান, “সিটং গ্রামীণ পর্যটনের এক অনন্য উদাহরণ। শুধু কমলালেবুই নয়, এখানে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট চা বাগান। পাহাড়ি গ্রামীণ এলাকার নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থা দেখার সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি লাটপানচারে পাখি দেখার অভিজ্ঞতাও মিলবে।”
পর্যটনের নতুন দিশা
বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভালের মাধ্যমে দার্জিলিং-কেন্দ্রিক পর্যটনের বাইরে গিয়ে উত্তরবঙ্গের গ্রাম ও অফবিট গন্তব্যগুলিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যই নিয়েছে রাজ্য। পর্যটন ব্যবসায়ীদের কাছে নতুন গন্তব্যের দরজা খুলে দিতে এই কার্নিভাল যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা মানছেন সংশ্লিষ্ট মহল।