SIR হিয়ারিংয়ে বাবার কবরের মাটি নিয়ে গেলেন বৃদ্ধ, ভরতপুরের ঘটনা VIRAL
আজ তক | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন কমিশনের পাঠানো হেয়ারিংয়ের নোটিস হাতে নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে প্রতিদিনই দাঁড়াতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। এর মাঝেই মুর্শিদাবাদের ভরতপুর এক নম্বর ব্লকের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এসআই আর (SIR) সংক্রান্ত শুনানিতে বাবার সমস্ত তথ্য ও নথি নিয়ে ব্লক অফিসে হাজির হতে বলা হয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দা কেবির শেখকে। প্রশাসনের সেই নির্দেশ পালন করতে গিয়েই এমন এক দৃশ্যের জন্ম হয়, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
শুনানিতে অংশ নিতে কেবির শেখ মাথার উপর কাপড়ের পুঁটলি বেঁধে নিয়ে আসেন বাবা, দাদু, ঠাকরদা সহ পূর্বপুরুষদের জমির দলিল, রেকর্ড পর্চা এবং একাধিক পুরনো ব্যক্তিগত কাগজপত্র। শুধু তাই নয়—বাবার পরিচয় প্রমাণের প্রতীক হিসেবে তিনি হাতে করে নিয়ে আসেন বাবার কবরের মাটিও। এই দৃশ্য ব্লক অফিস চত্বরে উপস্থিত মানুষজনকে স্তব্ধ করে দেয়। অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, পরিচয় ও বংশের প্রমাণ দিতে গিয়ে একজন সাধারণ মানুষকে এমনভাবে নিজের আবেগ ও যন্ত্রণাকে প্রকাশ করতে হচ্ছে।
ঘটনার ভিডিও দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। ভিডিও দেখে নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন, 'নথির অভাবে মানুষকে কি এতটাই অসহায় হতে হবে?' আবার অনেকেই বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ঘটনা নয়, বরং প্রশাসনিক জটিলতার সামনে সাধারণ মানুষের অসহায়তার প্রতিচ্ছবি।
স্থানীয়দের মতে, কেবির শেখের এই পদক্ষেপ আসলে তাঁর অসহায়ত্ব ও ভয়ের বহিঃপ্রকাশ—যেন কোনওভাবেই বাবার অস্তিত্ব বা পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নথিপত্র যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি ব্যবস্থার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভরতপুরের ডাঙ্গাপাড়ার এই ঘটনা এখন শুধু একটি ভাইরাল ভিডিও নয়— হয়ে উঠেছে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো এক বাস্তব চিত্র।
কিছু দিন আগে মালদাতেও একই রকমের ঘটনা ঘটেছিল। সেই জেলার এক ব্যক্তি পূর্বপুরুষের কবর থেকে মাটি তুলে শুনানিকেন্দ্রে হাজিরা দিয়েছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার-২ নম্বর ব্লকের সরিষা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও এমনি ঘটনা দেখা গিয়েছিল। এই এলাকার বাসিন্দা দাইয়ান গায়েন বাবা ও ঠাকুরদার যাবতীয় নথিপত্র ট্রাঙ্কে ভরে নিয়ে হাজির হন শুনানি কেন্দ্রে। এ ছাড়া তিনি সঙ্গে নিয়ে যান ঠাকুরদার কবরের মাটিও। ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল এলাকায়।