• এসআইআর আতঙ্কে ৭০ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, চাঞ্চল্য হুগলিতে
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চুঁচুড়া বিধানসভার অন্তর্গত ২৫ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন শেখ ইসমাইল। এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ জানুয়ারি তাঁকে ডাকা হয়েছিল। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও শুনানিতে ডাকা হয়। তাঁদের সঙ্গেই শুনানি কেন্দ্রে যান বৃদ্ধ ইসমাইল। অভিযোগ, শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছনোর পর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন।

    পরিবারের দাবি, শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন বৃদ্ধ। মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে হঠাৎই তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত তাঁকে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় শেখ ইসমাইলের।

    পরিবার ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্কই এই মৃত্যুর মূল কারণ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হোসনাবাদ এলাকায় কয়েকশো মানুষের নামে ফর্ম সেভেন জমা পড়েছে। ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে–এই আশঙ্কায় এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায় বিষয়টি নিয়ে বিডিও অফিসে বিক্ষোভও দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন শেখ ইসমাইলও।

    এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হুগলি জেলা পরিষদের তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য ও প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদার অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে সামনে রেখে বিজেপি মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ভয় দেখাচ্ছে। তার ফলেই শেখ ইসমাইলের মতো সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এর আগেও একাধিক ক্ষেত্রে এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুনানিতে ডেকে বৃদ্ধ মানুষটিকে আতঙ্কিত করা হয়েছে। জীবিত মানুষকে মৃত বানানোর চক্রান্ত চলছে। এই ঘৃণ্য রাজনীতির বিরুদ্ধে আমরা ধিক্কার জানাই।’

    যদিও নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের তরফে এখনও এই অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে একের পর এক এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্য জুড়ে উদ্বেগ ও বিতর্ক ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)