পুলিশ সূত্রে খবর, ২১টি দেহাংশের মধ্যে একটি আধপোড়া দেহ রয়েছে। বাকি ২০টি কঙ্কাল। অগ্নিকাণ্ডের পরে ২৮ জনের পরিবারের তরফে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার মধ্যরাত থেকে ঘটনাস্থলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা বা পূর্বতন আইপিসি ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
ফলে ওই এলাকায় জমায়েত এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আর এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাস্থলে যাওয়া এবং গড়িয়া শীতলামন্দির থেকে মিছিল করতে চেয়ে আবেদনও জানানো হয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে আজ দুপুর ২ টোয় এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, নরেন্দ্রপুর থানার আইসি-র আবেদনের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রমাণ লোপাট, তদন্তে বাধা কিংবা উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হতে পারে – এই আশঙ্কাতেই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এলাকায় উত্তেজনা বা শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রেপ্তার হয়েছে গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে। গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এই জন্যই আগুনের ভয়াবহতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ।এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তৎপরতা বেড়েছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে যেতে পারেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির একাধিক বিধায়ক।
এদিকে মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছিলেন। বুধবার সিঙ্গুরের এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়াও মোমো কোম্পানি ও ডেকরেটর্স সংস্থা ৫ লক্ষ টাকা করে দেবে বলেও জানান তিনি।
মৃতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সামনে এলে নিহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় স্পষ্ট হবে, যার উপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।
ঘটনার প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর বুধবার ওয়াও মোমো সংস্থার তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সমাজমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে সংস্থার তরফে পাশের গুদামের উপর দায় চাপানো হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া পাশের গুদামে রান্না চলছিল বলে তারা পোস্টে জানিয়েছে। সেখান থেকেই আগুন লাগে। যা ছড়িয়ে যায় ওয়াও মোমোর গুদামে। সেই বিবৃতিতেই সংস্থার তরফে লেখা হয়েছে, ‘আমাদের পাশের গুদাম থেকে ২৬ জানুয়ারি ভোর ৩টে নাগাদ আমাদের গুদামে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। আনন্দপুরে আমাদের একটি গুদাম সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আমাদের দু’জন কর্মীর মৃত্যু এবং এক জন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তারক্ষীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।’ পাশাপাশি মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া আজীবন মৃতদের পরিবারের সদস্যরা মাসোহারা পাবেন। মৃতদের সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব সংস্থা নেবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই গুদামে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক, ময়না এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার অনেকেই কাজ করতেন এবং রাতে সেখানে থাকতেন। যেহেতু ঝলসে যাওয়া দেহ এবং দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে, ফলে তাঁদের পরিচয় এখনও সুনিশ্চিত করা যায়নি। আর সেই জন্যই এই ডিএনএ ম্যাপিং। ওই গুদামে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, এই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই ডেকোরেটর্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।