হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রতারণা মামলায় কলকাতায় সিবিআই হানা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল এই ছয় বছরে দফায় দফায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রথমে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা এবং পরে আরও ২৬০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও সেই অর্থ নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার করা হয়নি। জাল নথি ও ভুয়ো তথ্য দেখিয়ে ব্যাঙ্কের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সব মিলিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার এই আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় দু’জন ব্যবসায়ী, দুটি সংস্থা এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের এক সরকারি কর্মচারীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০(বি) ধারায় ষড়যন্ত্র এবং দুর্নীতি দমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত করেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন ভোর থেকে অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।তদন্তকারীদের দাবি, ঋণের নামে জাল দলিল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে ব্যাঙ্কের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। আলিপুর অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে কাগজপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহ এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় সিবিআই এই অভিযান চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও ব্যাঙ্ক প্রতারণা সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির মামলায় চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারি কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। আলিপুর নিউ রোড, নিউটাউন-সহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেই অভিযান হয়েছিল। ফের আলিপুরে সিবিআই হানায় শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।