ঘর থেকে উদ্ধার হয় প্রৌঢ় দম্পতির দেহ। প্রথমে মনে করা হয়েছিল বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যক্তি। সেই ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রীয়েরও। আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা ও মানসিক ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা বলে মনে হলেও পরে ঘর তল্লাশি করতেই মেলে একটি রক্ত মাখা সিরিঞ্জ আর তাতেই ঘুরে যায় তদন্তের মোড়। সন্দেহ গিয়ে পড়ে মৃত দম্পতির মেয়ের উপর। যিনি পেশায় একজন নার্স।
অভিযোগ, প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন দিয়ে মেয়ে নিজে হাতে খুন করেছেন বাবা-মাকে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ জানুয়ারি তেলঙ্গনার ভিকারাবাদ জেলার ইয়াচারাম গ্রামে। মৃতরা হলেন এন দশরথম (৫৮) এবং তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী (৫৪)। গত ২৫ জানুয়ারি খবর পেয়ে ইয়াচারামে তাদের বাড়ি থেকে দম্পতির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রক্তমাখা সিরিঞ্জ খুঁজে পেতেই জোরদার তদন্ত শুরু করে তাঁরা। ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় মৃতদেহ।
রক্তমাখা সিরিঞ্জ নিয়েই পুলিশ দম্পতির ছেলে এবং তাদের তিন মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময়েই তাঁরা দম্পতির ছোট মেয়ে নার্স সুরেখার বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পান। পুলিশি প্রশ্নের মুখে এক সময়ে ভেঙে পড়েন বাবা-মাকে হত্যার কথা স্বীকার করে নেন অভিযুক্ত। ভিন জাতের প্রেমিককে বিয়ের পথে বাধা ছিলেন বাবা-মা। তাই তাঁদের পৃথিবীতে থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন সুরেখা।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত সাঙ্গারেড্ডি জেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত। জেরায় তিনি স্বীকার করেছেন যে হাসপাতাল থেকে অস্ত্রোপচারের সময় পেশী শিথিল করার জন্য ব্যবহৃত একটি ওষুধ চুরি করেছিলেন তিনি। সেই ওষুধের মাত্রার হেরফের যে মৃত্যু ডেকে আনতে পারে তা তিনি ভালোই জানতেন। সেই বিদ্যেকেই কাজে লাগিয়ে বাবা-মাকে প্রাণে মারার ফন্দি আঁটেন তিনি।
পুলিশের মতে, ঘটনার দিন সুরেখা কাজ থেকে ছুটি নিয়ে তার বাবা-মায়ের বাড়িতে চলে যান। তাঁদের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পরে তিনি বাবা-মাকে বলেন তাঁর কাছে এমন একটা ওযুধ আছে যা শরীরের সব ব্যথা কমিয়ে দেবে। এর পরেই বাবা-মায়ের বিশ্বাসের ফায়দা তুলে বিপজ্জনক মাত্রায় ওই ওষুধ তাঁদের শরীরে ঢুকিয়ে দেন। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের মৃত্যু ঘটানোর জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী ডোজ দিয়েছিলেন সুরেখা। তাঁর কাছে থেকে বাকি ওষুধের শট উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওষুধের সিরিয়াল নম্বরটি হাসপাতালের রেকর্ডের সঙ্গে মিলে গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, কেন এমন ভয়ানক পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন তাও জেরায় নিজেই স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত। ভিন জাতের এক ছেলের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে সুরেখার। তাঁকে বিয়ের করার ইচ্ছা প্রকাশ করতে আপত্তি করেন বাবা-মা। তাই তাঁদের রাস্তা থেকে সরাতে এই ভয়াবহ পথ বেছে নেন সুরেখা বলে অভিযোগ। তবে তাঁর প্রেমিক এই ব্যাপারে বিন্দু-বিসর্গ জানতেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।