বন্ধুত্বের আড়ালে কি লুকিয়ে ছিল চরম বিদ্বেষ? ‘গোরুর মাংস’ খাইয়ে ধর্ম নষ্ট করার অভিযোগে বন্ধুকে নৃশংস ভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ২৪ বছর বয়সি যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনা উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পুলিশি জেরায় অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি শুনে স্তম্ভিত খোদ তদন্তকারীরাও।
এই ঘটনার সূত্রপাত বেঙ্গালুরুতে। অভিযুক্ত বীরেন্দ্র যাদব এবং নিহত আফতাব আলম এক জায়গাতেই কাজ করতেন। থাকতেন একসঙ্গেই। বীরেন্দ্রর অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর মাসে আফতাব তাঁকে ভুল বুঝিয়ে গোরুর মাংস খাইয়েছিলেন। পরে সেই কথা পাঁচকান হতেই লোকলজ্জা ও বিদ্রূপের শিকার হতে হয় তাঁকে। মনে মনে জ্বলছিলেন বীরেন্দ্র। সেই ‘অপমান’-এর বদলা নিতেই ঠান্ডা মাথায় খুনের ছক কষেন তিনি।
গত ৮ জানুয়ারি বারাণসীর একটি পুকুরের পাড় থেকে উদ্ধার হয়েছিল আফতাবের রক্তাক্ত দেহ। তাঁর মুখ ও নাকে ছিল শুকন রক্তের দাগ। দেহের সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র থেকে জানা গিয়েছিল তিনি ‘সিদ্ধার্থ অটোমেটিক ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে এক সংস্থায় কাজ করেন। আরও জানা যায়, নিহত যুবক বিহারের ছাপরার বাসিন্দা।
পরে আফতাবের পরিবারের অভিযোগ করে, আফতাবের খুনের পিছনে নিশ্চিত ভাবে হাত রয়েছে বীরেন্দ্রর। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, যে দিন আপতাবের দেহটি উদ্ধার হয়েছিল, ঠিক সেই দিনই UPI ব্যবহার করে আফতাবের অ্যাকাউন্ট থেকে ৪০,০০০ টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল বীরেন্দ্রর অ্যাকাউন্টে।
সেই UPI লেনদেনের সূত্র ধরেই পুলিশ বীরেন্দ্রর কাছে পৌঁছয়। জেরার মুখে বীরেন্দ্র স্বীকার করেন, ধর্মনাশের প্রতিশোধ নিতেই তিনি ‘বন্ধু’কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। ২৫ জানুয়ারি বারাণসীর চোলাপুর থানার অন্তর্গত লস্করপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বীরেন্দ্র যাদবকে।