ফের রেলের চমক, আদ্রা ডিভিশনে ৮ টি ট্রেনের নতুন স্টপেজ ঘোষণা
আজ তক | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে আংশিকভাবে মানল ভারতীয় রেল। যাত্রীস্বার্থে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনে আটটি ট্রেনকে বিভিন্ন স্টেশনে পরীক্ষামূলক স্টপেজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট স্টেশনগুলিতে এই ট্রেনগুলি থামবে বলে মঙ্গলবার সন্ধেয় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রেলমন্ত্রক। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই ট্রেন চলবে বলে জানানো হয়েছে।
রেলের এই ঘোষণায় আদ্রা ডিভিশনের বিস্তীর্ণ এলাকার নিত্যযাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টপেজের দাবিতে আন্দোলন, ডেপুটেশন এবং চিঠিপত্র জমা দেওয়ার পর অবশেষে দাবি আংশিক মানায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তবে স্বস্তির পাশাপাশি ক্ষোভও রয়েছে। কোভিড পর্বের পর এখনও বেশ কিছু ট্রেন পরিষেবা বন্ধ, লোকাল ট্রেনকে এক্সপ্রেসে রূপান্তর করে ভাড়া বৃদ্ধি এবং সময়মতো ট্রেন না চলার অভিযোগ, সব মিলিয়ে রেলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।
আদ্রা ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ জানুয়ারি থেকে ১৮১৮২ থাওয়ে-টাটা এক্সপ্রেস বরাভূম ও বার্নপুর স্টেশনে থামবে। একই দিন থেকে ৬৩৫২০ বোকারো-আসানসোল প্যাসেঞ্জার বেগুনকোদর ও পুন্দাগে, ১৮১৮১ টাটা–থাওয়ে এক্সপ্রেস বার্নপুরে, ৬৩৫২০ বোকারো-বার্নপুর প্যাসেঞ্জার ঝালদায় এবং ৬৮০৬১ আদ্রা-আসানসোল প্যাসেঞ্জার মুরাডি স্টেশনে স্টপেজ পাবে। অন্যদিকে, ৩১ জানুয়ারি থেকে ৬৮০৭৬ ভোজুডি-আদ্রা প্যাসেঞ্জার রুকনি স্টেশনে এবং ১৮০১২ চক্রধরপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস ফুলেশ্বরে থামবে।
আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার বিকাশ কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানান, কয়েকটি ট্রেনের বিভিন্ন স্টেশনে স্টপেজ দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। নির্ধারিত দিন থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর হবে।
রেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ট্রেন পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ জমছিল। একাধিক জায়গায় ডেপুটেশন দেওয়া হয়। সম্প্রতি পুরুলিয়ায় জনসভা থেকেও এই বিষয়টি তুলে ধরেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনে বিধানসভা ভোট থাকায় রেল পরিষেবা নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও।
রেলযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, আদ্রা-আসানসোল প্যাসেঞ্জার ট্রেন থেকে মুরাডি স্টপেজ তুলে নেওয়ায় স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। আন্দোলন ও ডেপুটেশনের জেরেই শেষ পর্যন্ত রেলকে পিছু হটতে হয়েছে।