• বিজেপির অনুষ্ঠানে অপমানিত হয়ে ফিরল বাংলা ব্যান্ড ‘পাঁচফোড়ন’
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • ‘পাঁচফোড়ন’ ব্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বুধবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুরের রাজীব গান্ধী স্মারক ময়দানে কমল মেলার মঞ্চে পারফর্ম করার জন্য। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্যান্ডের সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলেও তাঁদের মঞ্চে উঠতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি গ্রিন রুমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শিল্পীদের জন্য ন্যূনতম চা-জলের ব্যবস্থাও করা হয়নি বলেই অভিযোগ ব্যান্ডের সদস্যদের। গাড়িতেই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয় তাঁদের।

    রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান বাতিল করে ফিরে যান তাঁরা। এরপরই ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ উগরে দেন শিল্পীরা। ব্যান্ডের লিড সিঙ্গার অমৃতা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘উদ্যোক্তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কোনও অ্যাডভান্স পেমেন্টও করা হয়নি। বুধবার সকালে ফোন করে বলা হয় সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান। আমাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকলেও আমরা সম্মতি দিই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সাড়ে ৬টায় এসে দেখি গ্রিন রুমে ঢুকতে দিচ্ছে না। গাড়িতেই বসে থাকতে বলা হয়। এমনকি বলা হয়, কেন আজ এসেছি, নাকি উদ্যোক্তারা জানতেনই না আজ আমাদের অনুষ্ঠান আছে। পরে জানতে পারি, এটা রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান। আগে জানলে আমরা কখনও আসতাম না। আমরা অসম্মানিত, অপমানিত। খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা হল।’

    দলের আর এক সদস্য নাম না করে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, ‘পুলিশে অভিযোগ করব। ভবিষ্যতে বাংলার বুকে কোনও শিল্পী যেন এই ধরনের মেলায় অংশ না নেন, সেই আবেদন জানাই। বাংলার সংস্কৃতির আবেগ বোঝে না এই রাজনৈতিক দলটি। শিল্পীদের সম্মান করতে পারে না, এরা দেশ চালাবে কীভাবে?’

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে মেলার উদ্যোক্তা ও বিজেপি নেতাদের নীরবতা ঘিরে। অভিযোগ জানতে চাইলে কার্যত দায় এড়িয়ে গিয়েছেন তাঁরা। মেলার দায়িত্বে থাকা বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি মনীষা শিকদার বলেন, আমি শুধু সংস্কৃতি কমিটির সঙ্গে ওই ব্যান্ডের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর কী হয়েছে জানি না। এটা লজ্জাজনক ঘটনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।

    মেলার আহ্বায়ক কুন্দন সাউ ফোনে শুধু বলেন, ‘মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি’, বলে ফোন কেটে দেন। বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুইও জানান, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন দুর্গাপুরের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী রণজিৎ গুহ। তিনি বলেন, ঘোরতর অন্যায় হয়েছে। আমন্ত্রণ করে শিল্পীদের অপমান করা কোনওভাবেই মানা যায় না। উদ্যোক্তারা গুরুতর ভুল করেছেন।

    এই ঘটনার পর সাংস্কৃতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা কতটা সুরক্ষিত। ‘পাঁচফোড়ন’ ব্যান্ডের সঙ্গে হওয়া এই আচরণকে অনেকেই বাংলার সংস্কৃতি ও শিল্পীসমাজের প্রতি চরম অবমাননা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)