• 'কাজ ছেড়ে দিয়েছিলাম বলে আজও বেঁচে আছি', অগ্নিকাণ্ডের পরে দাবি শান্তনুর
    এই সময় | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া

    মাঝে কেটে গিয়েছে তিন তিনটে বছর। ফের একবার রক্ষা পেলেন আগুনের হাত থেকে। আর তার জন্য ঈশ্বরকেই ধন্যবাদ দিচ্ছেন শান্তনু। পুরো নাম শান্তনু ভক্তা। ২০২২-এর ১১ অক্টোবর দিনটাকে এখনও ভুলতে পারেননি বাজির কারবারি। কারণ, সেদিন পাঁশকুড়ার সাধুয়াপোতা গ্রামে তাঁদের বাজির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ নাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্যকে। কারখানাতেই পুড়ে মৃত্যু হয়েছিল শান্তনুর মা স্বর্ণময়ী ভক্তার। মারা গিয়েছিল এক নাবালক বাজি শ্রমিকও।

    তবে সেদিন কারখানা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নিজেদের বাজির দোকানে ব্যস্ত থাকায় বেঁচে যান বাবা শ্রীকান্ত ভক্তা ও দুই ছেলে শান্তনু ও অতনু। ওই ঘটনার পরে বাজির কারবার থেকে সরে এসেছিলেন তাঁরা। চাননি এমন বিপজ্জনক ব্যবসায় কাজ করতে গিয়ে আর কেউ বলি হোক। সাধুয়াপোতার পাশাপাশি স্থানীয় পূর্ব চিল্কা এবং পশ্চিম চিল্কা গ্রামেও চলত বাজির কারবার। লাগাতার পুলিশি ধরপাকড়ের জেরে এলাকায় বাজি তৈরি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প পেশা খুঁজে নিয়েছেন বহু বাজির কারবারি। শান্তনু এবং অতনুও বাজির কারবার ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নেন। শান্তনু শুরু করেন ফুলের ব্যবসা। হোসিয়ারি ব্যবসায় ঢুকে পড়েন অতনু।

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত আনন্দপুরের গুদামে ওই ডেকরেটর সংস্থায় বছর খানেক আগে ফুলের কারিগর হিসেবে যোগ দেন শান্তনু। বেশ কয়েক মাস সেখানে কাজও করেন তিনি। কিন্তু মাস ছয়েক আগে ফুলের কাজ পেয়েই ওডিশায় চলে যান শান্তনু। আনন্দপুরের ওই গুদামেই কাজ করতেন পূর্ব চিল্কার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, জয়দেব মাজি এবং পশ্চিম চিল্কার প্রসেনজিৎ ঘড়া। ২৫ জানুয়ারি রাতের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনের এখনও কোনও খোঁজ পায়নি তাঁদের পরিবার। কারওরই যে আর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই, মনকে সেভাবেই প্রস্তুত করছেন পরিবারের লোকজন।

    আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ পাঁশকুড়ার ছজন ফুলের কারিগরের প্রত্যেকের পরিবার এখন অপেক্ষায়, সরকারি উদ্যোগে ডিএনএ পরীক্ষায় ঘরের মানুষটার শনাক্তকরণের জন্য। আর তাই টিভিতে দেখে ও ভাইয়ের মুখে আনন্দপুরের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে এতজনের নিখোঁজের কথা শুনে নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছেন শান্তনু। আনন্দপুরে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণে আজ প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় ধন্যবাদ দিচ্ছেন ঈশ্বরকে। ফোনে বলেন, '২০২২-এর অক্টোবরে আমাদের বাড়িতে বাজি বিস্ফোরণ হয়। মা মারা যান সেই বিস্ফোরণে। আমাদের বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। সে বারও আমি দোকানে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলাম। তারপর আমি আর ভাই বাজির করবার ছেড়ে দিই। আমি ফুলের কাজ শুরু করি। ভাই হোসিয়ারি ব্যবসায় ঢোকে। আনন্দপুরের ওই গুদামে কাজ করতাম। কয়েক মাস আগে ওখানে কাজ ছেড়ে ওডিশায় কাজে চলে যাই। আজ যদি ওখানে থাকতাম তাহলে আমিও বেঁচে থাকতাম কিনা সন্দেহ। কাজ ছেড়েছিলাম বলেই আজও বেঁচে আছি। আর এক বার প্রাণ রক্ষা পাওয়ায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।'

  • Link to this news (এই সময়)