• যুবসমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মোবাইল আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ আর্থিক সমীক্ষায়
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: মোবাইলে চোখ রেখেই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমনই চিত্র গোটা দেশের। বিশেষত নবীন প্রজন্মের এই মোবাইল আসক্তি নিয়ে এবার উদ্বেগ ধরা পড়ল আর্থিক সমীক্ষায়। সেখানে বলা হয়েছে, এই আসক্তি কাটাতে না পারলে শিরে সংক্রান্তি। শুধু শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যই নয়,  দেশের আর্থিক ভবিষ্যতেও তা ছায়া ফেলবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্র সংসদে ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেমিংয়ে অতিরিক্ত সময় দিতে গিয়ে শিশুদের বড় হওয়ায় বড়োসড়ো ফাঁক রয়ে যাচ্ছে। শিক্ষায় যথাযথ মনোনিবেশ হচ্ছে না। কাজের দক্ষতা বাড়ছে না। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে বাধ্য।রিপোর্ট অনুযায়ী, মোবাইল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি মনসংযোগ কাড়ছে। পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে না। তা মনে চাপ বাড়াচ্ছে। এর সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়ছে শিক্ষাক্ষেত্র এবং কাজের জগতে। কুপ্রভাব এখানেই থেমে নেই। মোবাইলে বুঁদ হওয়ায় সময়ের সঙ্গে বন্ধু-বলয় ছোট হতে থাকে। সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ কমে। কমতে থাকে অফলাইন সামাজিক দক্ষতা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গেমিং এবং অন্যান্য অনলাইনে কাজকর্মের পিছনে খরচ বেড়েছে। সাইবার জালিয়াতির খপ্পরেও পড়ছেন অনেকে। পরোক্ষ ক্ষতি হিসেবে বলা হয়েছে, দক্ষতা তৈরি না হওয়ায় তা নবীন প্রজন্মের কর্মজগতে প্রবেশের অন্তরায় হয়ে উঠছে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে কর্মজগতে প্রবেশ করলেও, উৎপাদন ক্ষমতা কম থাকছে। ফলে আয়ও কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরণ জানিয়েছেন, ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারে বয়স ভিত্তিক ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলিকে বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়সভিত্তিক বিষয়বস্তু রাখতে হবে। নির্দিষ্ট বয়সের ব্যবহারকারীদের কেবল নির্দিষ্ট ধরনের উপাদান, গেমিং অ্যাপ এবং বিজ্ঞাপনও দেখার ব্যবস্থা করতে হবে।ডিজিটাল আসক্তি রুখতে স্কুলগুলির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে অর্থনতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘স্কুলগুলিকে ডিজিটাল ওয়েলনেস কারিকুলাম রাখতে হবে। তাতে থাকবে স্ক্রিনটাইম লিটারেসি, সাইবার নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখা নিয়ে সচেতনতা।’ করোনা পর্বে অনলাইন শিক্ষার উপর নির্ভরশীলতা বাড়ে। পরিস্থিতি বদলালেও অনলাইন ক্লাস এখনও চলছে। রিপোর্টে সুপারিশ, অফলাইন কাজকর্ম বাড়াতে হবে।ডিজিটাল আসক্তি রুখতে অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের নানা ব্যবস্থারও উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। অস্ট্রেলিয়ায় নির্দিষ্ট বয়সের নীচে সেদেশের নাবালকদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ। ২০১১ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘শাটডাউন ল’ কার্যকর হয়েছে। মধ্যরাতের পর সেখানে অনলাইন গেম খেলতে পারে না সেদেশের নাবালকরা। চীনেও শিশুদের জন্য রয়েছে নানা বিধিনিয়ম।
  • Link to this news (বর্তমান)