• পাওয়ার বিমান বিপর্যয়ে ‘মেডে’ কল নেই, অপেক্ষা ব্ল্যাক বক্সের
    বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ল্যান্ডিংয়ের জন্য ককপিট থেকে সামনে যতটা নজরে আসা দরকার, সেটা না থাকার অর্থ লো ভিজিবিলিটি। তাহলে কি তেমন পরিস্থিতি হয়েছিল? নাকি রানওয়ে রিঅ্যালাইনমেন্ট? তা না হলে কি পাইলটদের ভুল (হিউম্যান এরর)? নাকি পুরোটাই টেকনিক্যাল ফেলিওর? প্রশ্ন বাড়ছে। আর তার সঙ্গে উত্তরের অপেক্ষাও। মুম্বই থেকে বারামতী রুটে অজিত পাওয়ার, শারদ পাওয়ার, সুপ্রিয়া সুলেদের প্রাইভেট এয়ারক্র্যাফটে যাতায়াত দীর্ঘকালীন রুটিন। হঠাৎ কী এমন হল? এত ক্ষুদ্র চার্টার্ড বিমানের তাবৎ যন্ত্রাংশ সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সে ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত না হয়ে তো উড়ানের অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই নেই! বিশেষ করে একটি রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী যেখানে সওয়ার। তাহলে ঠিক কী কারণে মহারাষ্ট্রের বারামতীর রানওয়েতে ভেঙে পড়ল অজিত পাওয়ারের বিমান? রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। একঝাঁক সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা ও চর্চা তুঙ্গে। বিমান পরিবহণ প্রযুক্তি এবং দুর্ঘটনার তদন্ত সম্পর্কে অবগত বিশেষজ্ঞ মহলের মধ্যে বারংবার যে প্রশ্ন উঠছে সেটি হল, পাইলট ইন কমান্ড শাম্ভবী পাঠক কেন ‘মেডে’ কল দেননি রেডিও কমিউনিকেশনে? তাঁর শেষ যে বাক্য এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল শুনতে পেয়েছে, সেটি হল বিপর্যয়ের প্রাক মুহূর্তে কার্যত অসহায় এক হাহাকারধ্বনি—‘ও...’।কিন্তু তার ঠিক আগে কী হয়েছিল? সেটি জানা যাবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এবং ব্ল্যাক বক্সে। পাওয়া গিয়েছে ব্ল্যাক বক্স। রয়েছে ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের জিম্মায়। এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো সেই তদন্ত করবে। ককপিট ভয়েস রেকর্ডার এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে জানা যাবে, ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলটের মধ্যে ল্যান্ডিং সিগন্যাল পাওয়ার ঠিক পর কী কথোপকথন হয়েছিল। সেই শেষ মুহূর্তের বাক্যগুলি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ডেটা রেকর্ডার থেকে জানা যাবে আদৌ প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না। তদন্তকারীরা বুধবারই ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত প্রাইভেট এয়ারক্র্যাফটের সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের দপ্তরে হানা দিয়েছে। এয়ার ফ্রেম, ইঞ্জিন লগবুক, ওয়ার্ক অর্ডার, অনবোর্ড ডকুমেন্ট এবং ইন্সপেকশন রেকর্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইঞ্জিন লগবুক থেকে জানা যাবে, মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার আগে ইঞ্জিন সম্পর্কে কী রিপোর্ট ছিল ওই চার্টার্ড বিমানের। একইসঙ্গে এই বিমান সংস্থা ঠিক কতদিন ধরে এবং কতগুলি সফল উড়ান নিয়েছে, স্পষ্ট হবে তাও। আজকাল প্রায় সমস্ত চার্টার্ড বিমানে সিসি ক্যামেরা থাকে। সেই ফুটেজ পাওয়ার সামান্যতম সম্ভাবনা আছে কি না, সেটাও যাচাই করা হচ্ছে। কারণ ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান থেকে ওই অংশ খুঁজে বের করা কঠিন।তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, দুর্ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় পুনের বিমানবন্দরে রানওয়ে ভিজিবিলিটি ছিল ২৫০০ মিটার। বারামতীতে আরও একটু কম। ঩সেই কারণেই কি ওই বিমান বেশিই মাটির কাছে ছিল? তেমন বার্তা কিন্তু এটিসি পায়নি। সেই কারণেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এটিসি কর্মীদের। হটলাইন কমিউনিকেশন পরীক্ষা করা হবে। বস্তুত শেষ ১০ মিনিটের প্রতিটি মুহূর্ত জানা জরুরি মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।
  • Link to this news (বর্তমান)