‘শিক্ষার আর দরকার নেই’, সংসার টানতে গোটা দেশে স্কুলছুট ৪৪% শিশু-কিশোর
বর্তমান | ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ওরা যত বেশি জানে, তত কম মানে! এই ভয়ে উদয়ন পণ্ডিতের একমাত্র পাঠশালার ঝাঁপই বন্ধ করে দিয়েছিলেন হীরক রাজা। কিন্তু ওই পাঠশালার খুদে পড়ুয়াদের জানার ইচ্ছে ছিল যথেষ্টই। কেন্দ্রের মোদি জমানায় অবশ্য এই ছবি কার্যত উলটে গিয়েছে। কারণ দেশের ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশু-কিশোরদের একটি অংশ মনে করছে, আদতে ‘শিক্ষার আর দরকারই নেই’। এখানেই শেষ নয়। সংসার টানতে গোটা দেশে স্কুলছুট হয়ে পড়ছে ৪৪ শতাংশ শিশু-কিশোর। কারণ একটাই—মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় বাড়তি রোজগারের প্রয়োজনীয়তা। বৃহস্পতিবার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা সংসদে পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই রিপোর্টেই এর উল্লেখ রয়েছে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক সমীক্ষাতেই জানানো হয়েছে, দেশের আট শতাংশ শিশু-কিশোর ‘শিক্ষাকেই অপ্রয়োজনীয়’ বলে মনে করছে। তাই বেমালুম স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই সার্বিক বিষয়কেই অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহল।স্কুলছুটের কারণ হিসাবে আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে কী কী বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে? এর মধ্যে অন্যতমই হল পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের সংস্থান। এই কারণেই ৪৪ শতাংশ খুদে পড়ুয়া স্কুল ছেড়েছে। এরপরই রয়েছে বাড়ির কাজকর্মে সহযোগিতা। আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গৃহকর্মে সহায়তা করতে দেশের ২৮ শতাংশ শিশু-কিশোর স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। ‘শিক্ষার আর দরকারই নেই’—এই কারণে স্কুল ছেড়েছে আট শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভের (পিএলএফএস) ইউনিট-লেভেল ডেটাতেই সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানের উল্লেখ রয়েছে বলেই দাবি আর্থিক সমীক্ষায়।তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় কিছু প্রস্তাবও দিয়েছে কেন্দ্র। তারা মনে করছে, যেভাবে আর্থিক চাপের শিকার হয়ে শিশু-কিশোরদের একটি বড় অংশ বিদ্যালয় ছাড়ছে, তাতে স্কুলশিক্ষায় ভোকেশনাল এবং স্কিল বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ছে। আর্থিক সমীক্ষায় স্পষ্টই বলা হয়েছে, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সি মাত্র ০.৯৭ শতাংশ পড়ুয়া স্কুলে এধরনের পেশামূলক এবং দক্ষতা-বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ পেয়েছে। অর্থাৎ আগামী দিনে আয়ের পথ সুগম করবে, এমন হাতে-কলমে কাজের প্রশিক্ষণ পড়ুয়াদের একটি বড় অংশই স্কুলে পায়নি।