সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে কমতে শুরু করেছে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার। অক্টোবর মাসে তা সর্বনিম্ন হয়েছে। এবং সেই প্রবণতা বজায় রেখে নিত্যব্যবহার্য খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার ক্রমাগত কমেই চলেছে। বাজেটের প্রাক্কালে এই হল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের দাবি। বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পেশ করেছেন আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্ট। সেখানেই উঠে এসেছে এই ছবি। কোন কোন খাদ্যের দামবৃদ্ধি কমেই চলেছে? সবজি, ডিম, মশলা, ডাল, সব ধরনের শস্য, মাংস এবং ভোজ্যতেল। দেশজুড়ে গৃহস্থের কাছে এই দাবি আজগুবি মনে হলেও কাগজে-কলমে মোদি সরকারের হিসাব এরকমই।কোনো বছরের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি কেমন, তারই একটি তথ্যভিত্তিক খতিয়ান এই আর্থিক সমীক্ষা। সেই রিপোর্টে প্রকাশ, সময়মতো বাণিজ্য নীতি সংক্রান্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাদ্যের সঞ্চিত ‘স্টক’ পর্যাপ্ত ছিল। লাগাতার ডালের মূল্যবৃদ্ধি সামলাতে অনেক আগে থেকেই দাম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। সেই কারণেই দাম কমেছে। এর পাশাপাশি আবার কয়েকটি বাক্যে এই আভাস দিয়ে রাখা হয়েছে যে, সব ধরণের মূল্যবৃদ্ধি কিন্তু বাড়তেও চলেছে। খাদ্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আর্থিক সমীক্ষার এহেন দাবিকে নয়া ‘জুমলা’ আখ্যা দিচ্ছে বিরোধীরা। দলের রিসার্চ ডিপার্টমেন্ট তথ্য পরিসংখ্যান উল্লেখ করে কংগ্রেস এদিনও বলেছে, ‘সরকারের অর্থনীতি সংক্রান্ত দাবিগুলি স্রেফ প্রোপাগান্ডা। কর্মসংস্থান, দারিদ্র এবং মূল্যবৃদ্ধি সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।’আর্থিক সমীক্ষা আরও একটি বিস্ময়কর প্রবণতা সামনে এনেছে—গ্রামীণ মূল্যবৃদ্ধির হার বিগত এক বছর ধরে শহরের তুলনায় বেশি। এমন পরিস্থিতি এই প্রথম। গ্রামীণ ভারতের অর্থনীতি ও ক্রয়ক্ষমতাকে ২০০৬ থেকে বদলে দিয়েছিল একটি প্রকল্প, ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি। ২০২৫ সালে সেটিকেই মোদি সরকার বদলে দিয়েছে সংস্কারের তকমা দিয়ে। আসন্ন বাজেটেই দেখা যাবে, কত বরাদ্দ করা হল ওই নতুন কাজের গ্যারান্টি প্রকল্পে! সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, অনেক কম বরাদ্দ হবে। সেক্ষেত্রে গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে। কারণ আয় কমবে, উৎপাদন কমবে, মূল্যবৃদ্ধি বাড়বে।দেশের কর্মসংস্থানের হালও নাকি অত্যন্ত ইতিবাচক বলে সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পিরিওডিক লেবার ফোর্স ডেটা থেকে স্পষ্ট যে, বেকারত্ব কমছে। কর্মসংস্থানের একঝাঁক নতুন দিগন্ত খুলেছে। আর জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ হয়েছে বহু গুণ। ভারতে অতি দরিদ্র এখন ৫ শতাংশ। আর কম অথবা মধ্য আয়ের দারিদ্র হার ২৩ শতাংশ। বাস্তব কিন্তু এই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কর্মহীনতার পরিসংখ্যান, এআইয়ের জেরে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি, তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিপুল কর্মসংস্থান কমে যাওয়া এবং সরকারি শূন্যপদে নিয়োগহীনতা ঠিক উলটো চিত্র তুলে ধরছে।বিহারে ভোটের মধ্যেই মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে এনডিএ সরকার। সেই নির্বাচনে জয় হাসিলের দু’মাসের মধ্যে আর্থিক সমীক্ষায় কেন্দ্র অবশ্য জানাচ্ছে, যেভাবে জনতাকে শর্তহীন টাকা দেওয়া হচ্ছে, সেটি কিন্তু রাজ্যগুলির ঋণ বাড়িয়ে দেবে। ঘাটতি বাড়ছে। এই প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাই বিরোধীদের দাবি, দ্বিচারিতার রেকর্ড গড়েছে আর্থিক সমীক্ষা।